জামাতের আক্রমন কৌশল, পুলিশ হিমশিম খাচ্ছে

মির্জা মেহেদী তমাল বাংলাদেশ প্রতিদিন  জানুয়ারি ১৮, ২০১২

জামায়াত-শিবিরের নিত্য নতুন কৌশলের সঙ্গে পেরে উঠছে না পুলিশ। বার বার কৌশল পরিবর্তন করায় জামায়াতের কোনো কর্মসূচির আগাম তথ্যও গোয়েন্দারা সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলার মোড়ে পুলিশের ওপর জামায়াতের ঝটিকা হামলার পর পুলিশ যখন ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা মোকাবিলায় কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত, ওই সময়ে গত রবিবার রাজধানীতে জামায়াতের ফের ঝটিকা মিছিল গোটা পুলিশ প্রশাসনকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। এ অবস্থায় রাজধানীতে জামায়াত-শিবিরের মিছিল, বিক্ষোভ ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে পুলিশ। এ ছাড়া জামায়াত-শিবিরকে প্রতিরোধের সময় পুলিশকে সুসংহত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত চার মাসের মধ্যে জামায়াত শিবিরের একই ধরনের দুটি ঝটিকা হামলায় শুধু রাজধানীতেই পুলিশের ৪৩ সদস্য আহত হন। এ ছাড়া অস্ত্র লুট হয় একটি (চার দিন পর উদ্ধার) এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের ৮টি গাড়িতে। সর্বশেষ জামায়াত-শিবিরের হামলার ঘটনা ঘটে গত বৃহস্পতিবার। এর আগে গত বছর ২০ সেপ্টম্বর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশের উপর একযোগে হামলা চালায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। পুলিশের কর্মকর্তারা বলেন, রাজধানীতে সামপ্রতিক সময়ে কোনো ঘটনায় পুলিশের এত সম্পদের ক্ষতি হয়নি এবং একসঙ্গে এত সদস্যও আহত হয়নি।

সূত্র জানায়, জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমসহ শীর্ষ নেতারা মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেফতার হওয়ায় প্রতিশোধপরায়ন হয়ে উঠেছে জামায়াত ও শিবিরের কর্মীরা। এরা পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের টার্গেট করে এগুচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেহেতু সতর্কতায় রয়েছে, সে কারণে তারা কৌশল পরিবর্তন করে বিভিন্ন সহিংসতা কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। গোয়েন্দাদের আগাম তথ্যও এমনটি রয়েছে।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের আচরণ রাজনৈতিক দলের কর্মীদের মতো ছিল না। রাজনৈতিক কর্মসূচির চেয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণই ছিল তাদের কাছে মুখ্য। ভবিষ্যতে যাতে তারা এ ধরনের কিছু ঘটানোর সুযোগ না পান, সেই লক্ষ্যে নতুন কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের ওপর হামলার পর অস্ত্রলুটের ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাতেই ঊধর্্বতন কর্মকর্তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর এনিয়ে কয়েকদফা বৈঠক গতকালও মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। বৈঠকের একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ঘটনা মোকাবিলায় পুলিশের ব্যর্থতার কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়।

বৈঠকে বলা হয়, জামায়াত এক রকম প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছে, পুলিশের কাছে এ সংক্রান্ত আগাম তথ্য ছিল না। জামায়াতের প্রস্তুতি এবং এ ধরনের কর্মসূচি নিয়ে সংবাদপত্রে আগাম খবর প্রকাশিত হলেও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আগাম কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তাই পুলিশের ভালো প্রস্তুতিও ছিল না। জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচির সিদ্ধান্তের তথ্য এখন গোপন রাখা হচ্ছে। পুলিশকে এড়ানোর জন্যেই তারা এ কৌশল নিয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, দলটি পরিকল্পিতভাবে গত এক বছরে সহিংস আন্দোলন সংগ্রামের জন্য সারা দেশে শতাধিক টিম গঠন করেছে। এ টিমগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছে সাবেক ও বর্তমান শিবির নেতারা। পুলিশ ও সরকারি দলের নেতাদের উপর হামলা করতেই গঠিত হয়েছে এ টিম। এ টিমের প্রতিটি সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে গোপন স্থানে। এদের অধিকাংশ সদস্য কুংফু কারাতে ও অস্ত্র পরিচালনায় পারদর্শী। এরা বিএনপির ছায়াতলে থেকেই বড় ধরনের হামলা বা আক্রমণ চালাবে বলে সূত্র উল্লেখ করেছে। অপারেশন ফাইট নামে টিমগুলোর প্রতিটি দলে ৫০ থেকে ১০০ জন সদস্য রয়েছে। এদের কাজ হবে হঠাৎ করে কাউকে আক্রমণ করে ঘায়েল করা। সারা দেশে এ রকম ৫ হাজার সদস্য রয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সংস্থা। একই সূত্র জানায়, জামায়াত-শিবিরের অনেক সদস্য ঢাকায় জড়ো হচ্ছে। তারা রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিচ্ছে। আবার এদের কেউ থাকছে মেসে আবার কেউ থাকছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে।

এদের চাল চলন বেশভূষা আধুনিক যুবকদের মতো। তারা চলাফেরা করবেন আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সঙ্গে। বিএনপির সভা সমাবেশের সঙ্গে মিশে কাজ করছে এখন অধিকাংশ শিবিরকর্মী। যাতে কেউ তাদের শিবিরের কর্মী হিসাবে চিহ্নিত করতে না পারে এটাই হচ্ছে তাদের কৌশল। পুলিশের অপর এক কর্মকর্তা জানান, জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের গ্রেফতারে পুলিশ ও গোয়েন্দারা কাজ করছে।

 

কিছু মিডিয়া জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে : অধ্যাপক মুজিব

আমার দেশ জানু ২০, ২০১২

‘জামায়াতের নিত্যনতুন কৌশল পেরে উঠছে না পুলিশ’ শিরোনামে গতকাল দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
গতকাল এক বিবৃতিতে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, সরকার জামায়াতে ইসলামীর ওপর নানাভাবে জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে। এ অবস্থায় পুলিশের ওপর আচমকা হামলা করা তো দূরের কথা, বরং পুলিশের হামলা থেকে বাঁচার জন্য অনেক সময় তাত্ক্ষণিক মিছিল করতে হচ্ছে। সেই তাত্ক্ষণিক ও সংক্ষিপ্ত মিছিলের ওপরও সরকারের নির্দেশে পুলিশ হামলে পড়ে নেতাকর্মীদের নির্যাতন চালিয়ে গ্রেফতার করে মিথ্যা মামলায় জড়াচ্ছে। আমরা বারবার সরকারের এহেন স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি।

তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, কিছু প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণ ও জুলুমের বিরুদ্ধে না লিখে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে সরকার ও পুলিশ প্রশাসনকে জামায়াতের বিরুদ্ধে আরও ক্ষেপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অথচ জামায়াত-শিবির কোনো আন্ডারগ্রাউন্ড দল নয় যে, গোপনে টার্গেট নিয়ে আচমকা হামলা চালাবে। জামায়াত এ ধরনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, এর প্রমাণ আমরা বহুবার দিয়েছি। তাই অপপ্রচার থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট পত্রিকা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ও সেক্রেটারি জেনারেল আবদুুল জব্বার পৃথক বিবৃতিতে এই সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এদিকে অপর এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ছাত্র শিবিরের ২৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার এবং শিবির চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর শাখার চন্দ্রপুরা কার্যালয়ে পুলিশের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।