হাইকোর্ট ডেকেছে কোতয়ালী পুলিশকে

Wed, May 30th, 2012 1:47 pm BdST

ঢাকা, মে ৩০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ঢাকা জজ কোর্টে এক নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং সাংবাদিক-আইনজীবীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় আট পুলিশ কর্মকর্তাকে তলব করেছে হাই কোর্ট।

বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ বিবেচনায় নিয়ে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চ বুধবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেয়।

আট পুলিশ কর্মকর্তা হলেন- মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (লালবাগ) হারুন-অর-রশীদ, সহকারী কমিশনার রাজিব আল মাসুদ, কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন খান, উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর, জামান, নুরুজ্জামান সরকার ও আমির আফজাল বিপ্লব এবং পুলিশ ক্লাবের প্রেসিডেন্ট।

এ আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আলতাফ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সকালে প্রথম দফায় ছয় জনকে তলব করে আদালত।দুপরের পর বেঞ্চ বলেছে, উপ-পরিদর্শক নুরুজ্জামান ও বিপ্লবকেও হাজির হতে হবে।

তাদের সবাইকে আগামী ৬ জুন হাই কোর্টে হাজির হয়ে আদালত পাড়ায় মঙ্গলবারের ঘটনায় নিজেদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে হবে। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- দুই সপ্তাহের মধ্যে তাও জানাতে হবে তাদের।

এছাড়া ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুরো ঘটনার বিবরণ, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের অতীত ইতিহাস ও সংক্ষিপ্ত জীবনী আদালতে জমা দিতে পুলিশ মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংক্ষিপ্ত জীবনীতে সংশ্লিষ্টদের ছাত্র জীবনের বর্ণনাও দিতে বলেছে আদালত।

‘দায়ী’ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চাকরিবিধি বা কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি-না, সে সংক্রান্ত প্রতিবেদনও দিতে হবে একই সময়ের মধ্যে।

মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনার শিকার তরুণীকে তার মা-বাবাসহ আদালতে আসতে বলা হয়েছে ৬ জুন।

মঙ্গলবার দুপুরে বাবার সঙ্গে মোটর সাইকেলে করে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে যাওয়ার পর পুলিশের সঙ্গে ওই তরুণীর কথা কাটাকাটি হয়। এরপর পুলিশ তাকে টেনে-হিঁচড়ে আদালতপাড়ায় পুলিশ ক্লাবে ঢোকায় এবং তার শ্লীলতাহানি করে বলে প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীরা জানান।

ওই তরুণীকে আটকের খবর পেয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের মারধরের শিকার হন তিন সাংবাদিক ও দুই আইনজীবী।

এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা হলে সন্ধ্যায় সহকারী উপপরিদর্শক নূরুজ্জামান সরকার ও আমির আফজাল বিপ্লবকে প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি করে পুলিশ।