রাজনৈতিক কথাবার্তা দিয়ে অর্থনীতি চালানো হচ্ছে

আকবর আলি খানআকবর আলি খান

গত কয়েক দশক ধরেই দেশের অর্থনীতি নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান।
আজ শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘প্রস্তাবিত বাজেট ২০১২-১৩ কেমন হলো: একটি সমুন্নয় পর্যালোচনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আকবর আলি খান এ কথা বলেন।

বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সমুন্নয়’ আয়োজিত আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।

বাজেট মোটেই বিশাল না, ঘাটতিও তত বেশি নয়ঃ মুহিত

আকবর আলি খান বলেন, ‘শুধুমাত্র এই অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের ক্ষেত্রেই না, গত কয়েক দশক ধরেই অর্থনীতি নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। অর্থাত্, রাজনৈতিক কথাবার্তা দিয়ে অর্থনীতি চালানো হচ্ছে। কিন্তু কঠোর বাস্তবতা হচ্ছে, কথা দিয়ে কিছু করা যাবে না। এ জন্য অর্থনীতি নিদারুণ প্রতিশোধ নিবে।’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, ‘অর্থনীতির কোনো রাজনৈতিক সমাধান নাই। রাজনীতিরও কোনো আর্থিক সমাধান নাই। দুইটা বিষয়কে আলাদাভাবে দেখতে হবে। এগুলো নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করে লাভ হবে না। যা প্রয়োজন, সে সম্পর্কে কুসুম কুমারী দাশ বলে গেছেন, ‘‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে’’। এখন আমাদের এই রকম সরকার দরকার। তবেই অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব।’

আকবর আলি খান বলেন, ‘সরকারের দুঃখ, এত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেও বাহবা পাচ্ছে না। আর জনগণের দুঃখ, লোডশেডিংয়ের বোঝা তাদের কাঁধ থেকে নামছে না। কিন্তু বিড়াল সাদা বা কালো কোনো বিষয় না, সেটি ইঁদুর মারতে পারে কি না—তাই দেখবার বিষয়।’ তিনি বলেন, ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। কিন্তু এখন অনেক কেন্দ্র বন্ধ হয়ে আছে। মেরামত করা হচ্ছে না।

পিডিবির তথ্য মতে, শুধু মেরামত, তরল জ্বালানি ও গ্যাসের অভাবে ২০০৯ সালের ১৩ মে এক হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট; ২০১০ সালের ১৩ মে এক হাজার ৬৬৮ মেগাওয়াট; ২০১১ সালের ১৩ মে দুই হাজার ৬৬৮ মেগাওয়াট এবং চলতি বছরের ১৩ মে তিন হাজার ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন সম্ভব হয়নি।

আকবর আলি খান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কিছু বিপরীতমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। তবে আশার আলো, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হলেও প্রবৃদ্ধি ছয় দশমিক তিন শতাংশ হয়েছে। এতেও সাধারণ মানুষের জীবনে ধনাত্মক প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন আগামী অর্থবছর মূল্যস্ফীতি সাত দশমিক পাঁচ শতাংশে নেমে আসবে। কিন্তু আইএমএফের ঋণের শর্তের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে। ভর্তুকি কমানো হয়েছে। তাই এটি অর্জন নিয়ে সংশয় থাকছেই।

কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বাজেট ঘাটতি পাঁচ শতাংশ। এতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু সরকার যদি এই ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়, তবে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ হ্রাস পাবে। এ ক্ষেত্রে সরকার বন্ড ও সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বাজেট পর্যালোচনা নিয়ে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এ কে এনামুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন সমুন্নয়ের প্রকল্প সমন্বয়কারী দিলরুবা ইয়াসমীন চৌধুরী।