Dipu Moni stiff on ‘no refugee’

No trans-boundary spillover, Dipu reiterates

Star Online Report June 13, 2012

Foreign Minister Dipu Moni has reiterated that there would be no trans-boundary spillover following the ongoing sectarian violence at the Rakhine state of Myanmar.

She made the comment to reporters after a programme at Cirdap auditorium on Wednesday a day after United Nations High Commissioner for Refugees (UNHCR) in a briefing urged the government to accept refugees from the neighbouring country.

Replying to a query, the minister said the United Nations was yet to place any formal proposal to the government.

“Border Guard Bangladesh and other responsible agencies have been kept on high alert at all the coastal districts across the country,” Dipu Moni said.

She hoped that Myanmar would be able to control the violence between Muslims and Buddhists and save the lives and properties of their people.

Dozens of people have been killed in a surge in sectarian violence in Myanmar.

A state of emergency has been declared in western Rakhine state, which has been rocked by a wave of rioting and arson, posing a major test for the reformist government which took power last year.

সীমান্তে বাংলাদেশ সতর্কাবস্থায় আছে

মিয়ানমারে সম্প্রতি সৃষ্ট উত্তেজনা নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, ‘আমাদের সীমান্তে বিজিবি, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।’
আজ বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জনগণের ক্ষমতায়নের মডেলের ওপর বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন সম্পর্কে এক পরামর্শ সভার উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
দীপু মনি বলেন, ‘সীমান্তের ওপারে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আমরা আশা করি, মিয়ানমারের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের জানমাল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সমর্থ হবে। সেখানে তাদের সমস্যা নিরসন করতে পারবে। আমাদের দিক থেকে যতটুকু সতর্ক অবস্থায় থাকা দরকার, সরকার তা করছে।’
বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত কয়েক দিনে রোহিঙ্গা মুসলিম ও বৌদ্ধদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় প্রায় ২৫ জন নিহত হয়েছে। এরপর গত সোমবার সীমান্তবর্তী নাফ নদী ও কক্সবাজারের টেকনাফের কাছে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করে কয়েক শ রোহিঙ্গা। তবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ড রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখে দেয়।
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার প্রসঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেনি বলে জানান দীপু মনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইউএনএইচসিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলাদেশে আসবেন। ১৯ জুন তাঁর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা। তবে এটি পূর্বনির্ধারিত। মিয়ানমারের সাম্প্রতিক উত্তেজনার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, বাংলাদেশ চায় না, মিয়ানমার থেকে নতুন করে রোহিঙ্গারা আসুক।
এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়ার জন্য গতকাল সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় ইউএনএইচসিআর। বাংলাদেশে সংস্থার আবাসিক প্রতিনিধি ক্রেইগ স্যান্ডার্স বিবিসিকে বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমাদের অনুরোধ, তারা যেন সীমান্ত প্রহরা শিথিল রাখে এবং শরণার্থীদের ঢুকতে দেয়, বিশেষ করে সহিংসতায় যারা আহত হয়েছে।’

রোহিঙ্গা ঠেকাতে ক্যাম্প, টেকনাফ বন্দর বন্ধ

গিয়াস উদ্দিন, টেকনাফ (কক্সবাজার) | তারিখ: ১৩-০৬-২০১২

মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে টেকনাফ-মিয়ানমার সীমান্ত-বাণিজ্য ও ট্রানজিট চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় গতকাল মঙ্গলবার থেকে তিন দিন সেন্ট মার্টিন থেকে উখিয়ার মনখালীর ঘাট পর্যন্ত সব ধরনের নৌযান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অস্থায়ী ক্যাম্পও স্থাপন করা হয়েছে।
৪২ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ টেকনাফ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর শফিকুর রহমান জানান, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় উখিয়ার মনখালীতে অস্থায়ী যৌথ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। মনখালী থেকে সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত নৌযান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড ওই এলাকায় টহল দিচ্ছে।
এদিকে টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশের টহল জোরদার করা হলেও সোমবার ভোরে শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিমপাড়া সৈকত এলাকা দিয়ে এক পরিবারের নয়জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। তারা হলো: মিয়ানমারের গোয়ালিয়ার ডিল এলাকার বাসিন্দা সকিনা বেগম (৭০), রেহেনা বেগম (২৫), জহুরা খাতুন (৪০), আবদুল আমিন (৩০), খালেদা বেগম (১৪), মো. নয়ন (৯), সুবেদা বেগম (৭), নূর ফাতেমা (৬) ও নূর হাকিম (২)।
সকিনা বেগম ও জহুরা খাতুন জানান, মিয়ানমারে আকিয়াব এলাকায় তাঁদের ঘরবাড়িতে লুটপাট চালিয়ে লোকজন ধরে নিয়ে হত্যা করছে দেশটির সেনাবাহিনী। একটি ট্রলারে করে তাঁরা বাংলাদেশের পথে পাড়ি দিয়েছেন। বিজিবি ও কোস্টগার্ডের বাধায় দুই দিন সাগরে ভাসার পর সোমবার ভোরে বাংলাদেশে পৌঁছান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিজিবির স্থানীয় কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সরেজমিনে টেকনাফ বন্দরের জেটিতে কোনো ট্রলার দেখা যায়নি। টেকনাফ স্থলবন্দরের অভিবাসনকেন্দ্র ও এক দিনের ট্রানজিট ঘাট দিয়ে যাতায়াত বন্ধ থাকতে দেখা যায়।
টেকনাফ অভিবাসন কর্মকর্তা আবদুল কাদের সিদ্দিকী জানান, মিয়ানমার সরকার নৌপথ বন্ধ রাখায় বাংলাদেশি আটজন নাগরিক আটকা পড়ে আছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে মিয়ানমারের কয়েকজন ব্যবসায়ী আটকা পড়েছেন। টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী আবুল হাশেম প্রথম আলোকে বলেন, মিয়ানমার থেকে দুটি পণ্যবোঝাই ট্রলার গত বৃহস্পতিবার বন্দরে আসে। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতার কারণে গত সোমবার পণ্য খালাস না করেই তা ফিরে যায়। চট্টগ্রামে আসাদগঞ্জ এলাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আল-মদিনা স্টোরের শওকত আলী জানান, ওই দুটি ট্রলারে তাঁরসহ সাতজন ব্যবসায়ীর পণ্য ছিল। ট্রলারটি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ায় মালামালগুলো লুট হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
টেকনাফ বন্দর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ইউনাইটেড ল্যান্ডপোর্ট টেকনাফ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক আবদুল মোহাইমেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিরাপত্তাহীনতার কারণে দুটি ট্রলার ফিরে গেছে—এটা সত্য নয়। মিয়ানমারের সংঘাত শুরুর পর চার দিন ধরে উভয় দেশ থেকে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে।’
টেকনাফ শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তা কাজী আবুল হোসাইন জানান, মিয়ানমারের দাঙ্গার কারণে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন ৪০ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।