মায়ানমার-রোহিঙ্গা-বাংলাদেশঃ ইতিহাস ও বর্তমান

অবশ্যই আমাদের রাষ্ট্রবুদ্ধি প্রয়োজন, কিন্তু তার জন্য অমানবিক হতে হবে কেন?
অবশ্যই আমাদের রাষ্ট্রবুদ্ধি প্রয়োজন, কিন্তু তার জন্য অমানবিক হতে হবে কেন?

ফারুক ওয়াসিফ, প্রথম আলো জুন ১৬, ২০১২

‘দরিয়া কিনারে আজ দুঃখ অথৈ;
করজোড়ে বলি, গ্রহণ করো রহম করো ভাই।’
ইতিহাসের কী অদ্ভুত পরিহাস! অষ্টম শতকে এক আরব সওদাগরি জাহাজ পশ্চিম আরাকান উপকূলে ভেঙে পড়ে। স্থানীয় রাজার নির্দেশ হয়, এদের হত্যা করো। অসহায় আরবেরা তখন নিজ ভাষায় রাজার প্রতি ‘রহম’ করার আবেদন জানায়। তারাই এই এলাকার নাম দেয় রহম-ব্রি, যার অর্থ করুণার ভূমি। বর্তমানেও আরাকানে রামব্রি নামের দ্বীপটি আছে, কেবল রহমের কোনো চিহ্ন নেই। বলা হয়, এই রহম থেকেই আরাকানিদের আদি নাম রোহানের উৎপত্তি এবং রোহান থেকে রোহিঙ্গা নামের জন্ম। সেই রহমের দেশের মানুষ স্বদেশে রহমবঞ্চিত হয়ে আমাদের দেশের জলসীমান্তে এসে উপস্থিত। করুণা ভিক্ষা করে তারা বলছে, ‘ভাসা পথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে হে সভ্যতা। আমরা সাতভাই চম্পা মাতৃকাচিহ্ন কপালে করে এসে ঠেকেছি এই বিপাকে—পরিণামে। আমাদের কোলে-কাঁখে শিশু, ঘরপোড়া কাঠে কালো কালো যিশু। দরিয়া কিনারে আজ দুঃখ অথৈ, করজোড়ে বলি, গ্রহণ করো রহম করো ভাই।’

দয়া করে শরনার্থীদের সাহায্য করুন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের চোখে উটকো ঝামেলা আর মিয়ানমারের কাছে বহিরাগত ‘বাঙালি’। মিয়ানমারে তারা ঘৃণিত, বাংলাদেশে তারা পরিত্যক্ত। সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি রোহিঙ্গা আন্দোলনের পেছনে জামায়াতে ইসলামীর উসকানি খুঁজলেও ভাসমান মানুষের চোখের পানি দেখতে পাননি। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের শাসকশ্রেণী যে বর্ণবাদী, সাম্প্রদায়িক ঘৃণায় কলঙ্কিত করে, আমাদের সরকারি দৃষ্টিভঙ্গি তা থেকে কতটা ভিন্ন?
মিয়ানমারের সরকার ও জনগণের বড় অংশ গভীরভাবে বিশ্বাস করে, রোহিঙ্গারা অপরাধপ্রবণ, মৌলবাদী, ঠিক মানুষ নয়, দ্বিপদবিশিষ্ট আপদ। তাদের এই বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সেবনে বাংলাদেশের শাসক মহলেরও দেখি আপত্তি নেই। এ ধরনের মনোভাবকেই জাতবিদ্বেষ, বর্ণবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি বলা হয়। মিয়ানমারে আধাসামরিক সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চিও রোহিঙ্গা ও মুসলমানদের বর্ণবাদী ‘কালার’ নামে ডাকছেন। এ জন্য তাঁদের বর্ণবাদী বললে ‘অপমান’ হবে। অপমান, লাঞ্ছনা ও দুর্দশা তাই রোহিঙ্গাদেরই ললাটলিখন।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্ভাগ্যের অন্যতম একটি কারণ এই মনোভাব। এই মনোভাবের ধোঁয়া কেটে গেলে দেখা যাবে, রোহিঙ্গারা আজ সে রকম নিপীড়ন ও গণহত্যার শিকার, ১৯৭১ সালে যা এক কোটি বাঙালিকে শরণার্থী হতে বাধ্য করেছিল। আন্তর্জাতিক আইনে শরণার্থী মর্যাদার পূর্ণ দাবিদার হওয়া সত্ত্বেও ধর্মীয় পরিচয় এবং পরাশক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক লীলাখেলায় তারা খরচযোগ্য। তাদের মারলে বা আশ্রয় না দিলে কোনো দোষ নেই। তাদের জন্য জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী হস্তক্ষেপ কিংবা উদ্বাস্তু তহবিলের টাকার টানাটানি কখনো শেষ হয় না।
উগ্র জাতীয়তাবাদী মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠী করে দিয়েছে। আদমশুমারিতে তাদের গণনা করা হয় না। তাদের বাঁচামরা, বিবাহ ও সন্তানধারণ, কাজ ও ভ্রমণ, লেখাপড়া ও বাণিজ্য—সবই সামরিক শাসকদের কৃপার অধীন। এবারের মতো আরও অজস্রবার তাদের বসতি পুড়েছে, তাদের ওপর জাতিগত শুদ্ধির গণহত্যা চলেছে। অথচ শত শত বছর ধরে এরাই আরাকানের আদিবাসী এবং রোহিঙ্গারা ছিল আরাকানের জনসংখ্যার অর্ধেক। আরাকান রাজ্য এমনিতেই দুর্গম পাহাড় দিয়ে মূল বার্মা থেকে আলাদা। সে কারণে খ্রিষ্টপূর্ব সময় থেকেই বৃহত্তর ভারতবর্ষের সঙ্গেই তাদের যোগাযোগ। এই অঞ্চলে ভারতীয় হিন্দু, বৌদ্ধ ও ইসলামের প্রভাব হাজার বছরের বেশি পুরোনো। মধ্যযুগে এই হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা চন্দ্র-রোসাং আর মুসলমানেরা রোহাং নামেই পরিচিত ছিল।
প্রাচীন সমৃদ্ধ আরাকানের বিপর্যয়ের শুরু মূলত ১০৪৪-১০৭৭ খ্রিষ্টাব্দে বার্মিজ রাজা আনাওরথার আগ্রাসনের সময় থেকে। তিনি হাজার হাজার স্থানীয় রোসাং, রোহাং এবং রেকং বা রাখাইনদের হত্যা করেন; দেশত্যাগী হয় লাখ লাখ আরাকানি। ঐতিহাসিকেরা সাক্ষ্য দিচ্ছেন, চট্টগ্রামে বসবাসকারী চাকমা, রাখাইন, মারমাসহ অনেক জনগোষ্ঠী সে সময়ই দেশত্যাগী হয়ে বাংলাদেশে বসত করে। রাজা আনাওরথাই প্রথম অহিংসার বৌদ্ধ ধর্মকে বর্ণবাদী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেন। স্থানীয় বৌদ্ধ মতবাদ হটিয়ে তিনি থেরাভাদা বৌদ্ধ মতবাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেন। পঞ্চাশের দশকে বার্মার সামরিক সরকারও একে রাজধর্ম করে এবং দেশের ১৮০টির বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে ঔপনিবেশিক কায়দায় কোণঠাসা করে রাখে। এরই প্রতিক্রিয়ায় রোহিঙ্গারা ছাড়া বাকি আদিবাসীরা অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। সু চির বাবা অং সানের অন্যতম প্রধান সহযোগী ছিলেন মুসলমানদের নেতা উ রাজাক। তিনি সে সময় সেক্যুলার জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে মুসলমানদের অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদে দীক্ষিত করেন। শিক্ষা ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে মুসলিম ও বৌদ্ধ বার্মিজদের কাছে তিনি জনপ্রিয় ছিলেন। সু চির বাবা অং সানের নেতৃত্বে সংবিধানে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিশেষাধিকার অন্তর্ভুক্তির সময় উ রাজাকের কারণেই মুসলমানরা বাদ পড়ে। সু চি হয়তো ভুলে গেছেন, তাঁর বাবার সঙ্গে একত্রে উ রাজাকও নিহত হন। মিয়ানমারের মুসলিম জনগোষ্ঠীর জঙ্গি বা বিদ্রোহী হওয়ার রেকর্ড অন্য বার্মিজদের তুলনায় শতগুণ কম। অপরাধপ্রবণতার দিক থেকেও তারা পিছিয়ে। সুতরাং মিয়ানমারের সরকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের মন্ত্রী যা বলেছেন, তা ঠিক নয়।
পঞ্চাশের দশক থেকে সামরিক সরকার বার্মার জনগণকে উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতায় উত্তেজিত করে বিভক্তির শাসন চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক দাঙ্গার পেছনেও পাওয়া যাচ্ছে এক তরুণ বৌদ্ধ সন্ন্যাসীকে। আফগানিস্তানের তরুণ তালেবান মৌলবাদীদের অনুকরণে তাঁকে বলা হচ্ছে ‘তালেবান সন্ন্যাসী’। বার্মার সরকারি ও বিরোধী দলও মুসলমান ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত লোকজনের বিরুদ্ধে এককাট্টা। তাই আজ রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যে জাতিগত গণহত্যা চলছে, অচিরেই সেটা অন্যান্য ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বিরুদ্ধে যে হবে না, তার নিশ্চয়তা কী?
ঘৃণার রাজনীতি প্রথম হত্যা করে সত্য ও ইতিহাসকে। যে যুবকটি রাখাইন নারী ধর্ষণের অপরাধী, তার বাবা নিজেও একজন রাখাইন। রাখাইনের ঘরে জন্ম নিয়ে সে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে চলে আসে। বাবার মৃত্যুর পর ছেলেটি ভবঘুরে অপরাধীদের খাতায় নাম লেখায়। অন্যদিকে, ধর্ষণের প্রতিহিংসায় যে ১০ জনকে হত্যা করা হয় তারা কেউই রোহিঙ্গা নয়; এমনকি সবাই মুসলমানও নয়। অভিযোগ রয়েছে, মিয়ানমারের গণতন্ত্রের যাত্রাকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে দাঙ্গা ঘটানো হয়েছে। ধর্ষকদের হাতেও যে যোগাযোগ প্রযুক্তি দেখা গেছে, সেটা সাধারণ ভবঘুরেদের হাতে থাকার কথা নয়।
দাঙ্গা শুরু হয় ৮ জুন। কিন্তু গত এপ্রিল থেকেই বার্মার সরকারি গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিমবিরোধী জিগির তুলে যাচ্ছিল। কয়েক মাস আগে অং সান সু চির দলের এক এমপি লোক লেলিয়ে দাঙ্গা ঘটান।

দুই.
মানবসমাজ চিরকালই অভিবাসনপ্রবণ ছিল। অতীতে যখন রাষ্ট্র ও সীমান্তের প্রতাপ এত ছিল না, তখন হরহামেশাই এক সমাজের মানুষ অন্য সমাজে গিয়ে বসতি গেড়েছে এবং গৃহীত হয়েছে। মিয়ানমারের মগ ও রাখাইনেরা যেমন বাংলাদেশে বসতি করে, তেমনি অনেক বার্মিজ জাতিগোষ্ঠী কম্বোডিয়া-ভিয়েতনাম প্রভৃতি অঞ্চল থেকে আজকের মিয়ানমারে এসে থিতু হয়।
১৪৩৩ সালে আরাকান বাংলা সালতনাতের অধীন হয়। আরাকানের রাজারা একাধিকবার রাজ্য হারিয়ে গৌড়ের মুসলিম সুলতান অথবা মোগল দরবারে আশ্রয় নিয়েছেন এবং তাঁদের বাহিনীর সমর্থনেই হারানো রাজ্য উদ্ধার করেছেন। মধ্যযুগ থেকে ১৮ শতক পর্যন্ত অনেক আরাকানি রাজবংশের নামে মুসলমান পরিচয় পাওয়া যায়। এর অর্থ মুসলমানেরা সেখানে সংখ্যা ও সম্মানে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কবি আলাওল, সৈয়দ আশরাফ প্রমুখ আরাকানের রোসাং রাজসভারই মন্ত্রী ছিলেন। চট্টগ্রামের মানুষ যেমন আরাকানে গেছে, তেমনি অনেক আরাকানিও বিভিন্ন যুগে বাংলাদেশে বসতি গড়েছে। ১৪ শতকের ইতিহাসবিদ রশিদুদ্দীন থেকে শুরু করে, তুর্কি নাবিক সিদি আলী, আইন-ই আকবরি, বাহরিস্তান গায়েবি, সিয়ারুল মুতাখারিন-এর লেখকেরাও এর প্রমাণ দিচ্ছেন। ষোড়শ শতকের ব্রিটিশ পর্যটক র‌্যালফ ফিচও আরাকানের নাম বলছেন রুয়ং, যা শুনতে রোয়াংয়ের মতো। ইতালীয় পর্যটক মানুচ্চি ফারসি সূত্র ধরে একে বলেছেন রেকন। চট্টগ্রামের শঙ্খ নদের তীরে বসবাসকারী একটি জনগোষ্ঠীর নাম রোওয়াঙ্গি বা রোয়াংয়ের মানুষ। ষোড়শ শতকে শায়েস্তা খাঁ চট্টগ্রামকে মগ বা আরাকান দখল থেকে মুক্ত করার আগে প্রায় এক শতাব্দী এলাকাটি আরাকানের অংশ ছিল।
এই ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের কারণেই আরাকান বিষয়ে বাংলাদেশের সজাগ থাকা প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দেওয়ার কারণ সাম্প্রদায়িক মুসলিম বিদ্বেষ হলে তা লজ্জার ব্যাপার। মানবিক ও রাজনৈতিক কারণটিই বড় করে দেখতে হবে।
কিন্তু কেন বাংলাদেশ সমস্যাটি ঘাড়ে নেবে? সরকার যে জাতীয় স্বার্থের অজুহাত দিচ্ছে, তা যদি তারা মানতেন, তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের বিক্ষুব্ধ করে তুলতেন না। যারা স্বদেশবাসীদের নিজ ভূমিতে উদ্বাস্তু করে রাখতে পারে, তারা প্রতিবেশীদের আশ্রয় দেবে—এমন আশা বাতুলতা। তবে, মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত, সমুদ্রসীমাসহ বহুবিধ সমস্যা রয়েছে। সেসব সমস্যা সমাধানের চাপ হিসেবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া কৌশলগত চাল হিসেবে খারাপ হয় না। অন্যদিকে, দীর্ঘ মেয়াদে আরাকান অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ভূমিকা রাখতে পারে। আরাকান ও চট্টগ্রামের আরও কাছাকাছি আসা উভয়ের স্বার্থেই দরকার। আরাকানে যত দিন অশান্তি থাকবে, তত দিন আমাদের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে অস্থিতিশীলতার ঢেউ আছড়ে পড়বে।
এবারে যেহেতু রোহিঙ্গা ইস্যুটি আন্তর্জাতিক মনোযোগে এসেছে, একাত্তরের ভারতের মতো শরণার্থী সমস্যা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আরাকানে শান্তি কায়েমে ভূমিকা রাখতে পারে। মিয়ানমারে নির্বাচনী গণতন্ত্র কায়েম হলে পূর্বাঞ্চলীয় আসাম-ত্রিপুরার মতো এই অঞ্চলটিও হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মিত্র ও ব্যবসায়িক অংশীদার। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের বিষয়ে একেবারে কঠোর হলে তিন লাখের মতো রোহিঙ্গা এ দেশে আশ্রয় পেত না। কিন্তু এই দায় একা বাংলাদেশের পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়। জাতিসংঘ, আসিয়ানসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে কেবল বাণী ঝাড়লে হবে না, মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে হবে, বাংলাদেশকে তহবিল ও রাজনৈতিক সমর্থন জোগাতে হবে। তার জন্য মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক হারাতে হতে পারে ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও অস্ট্রেলিয়াকে। আমাদের সরকারের উচিত, বলটা আন্তর্জাতিক মুরব্বিদের মাঠে ঠেলে দেওয়া এবং বলা, আমরা গ্রহণে প্রস্তুত, কিন্তু তোমাদেরই আগে সদিচ্ছার প্রমাণরাখতে হবে। বাংলাদেশে আগমনকারী লাখ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনের স্বার্থেও বিষয়টির একটা আখেরি সুরাহা হওয়া দরকার। কয়েক হাজার শরণার্থীকে ফিরিয়ে এই সমস্যা এড়ানো যাবে না, মানুষ আসাও ঠেকানো যাবে না।
অবশ্যই আমাদের রাষ্ট্রবুদ্ধি প্রয়োজন, কিন্তু তার জন্য অমানবিক হতে হবে কেন?

ফারুক ওয়াসিফ: লেখক ও সাংবাদিক।
farukwasif@yahoo.com