‘সোয়া লাখ ঋণখেলাপী’

ঢাকা, জুন ২৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশে খেলাপী ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা এক লাখ ২২ হাজার ৪৩৭ জন বলে সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ রেহেনা আক্তার রানুর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে খেলাপী ঋণ নিয়ে ৩২ হাজার ৪৪০টি মামলা বিচারাধীন ছিল।

অর্থমন্ত্রী জানান, খেলাপী ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ব্র্যাক ব্যাংকে। বেসরকারি এই ব্যাংকের ২৯ হাজার ২০৩ জন গ্রাহক ঋণ নিয়ে নির্ধারিত সময়ে তা ফেরত দেননি। এর পরেই আছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। এর ২০ হাজার ৫ জন গ্রাহক ঋণ খেলাপী হয়েছে।

এছাড়া ২০১২ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত অংগ্রণী ব্যাংকের সাত হাজার ৯২৩ জন, জনতা ব্যাংকের চার হাজার ৯৪১ জন, রূপালীর তিন হাজার ৯১৪ জন, সোনালীর সাত হাজার ৭৮১ জন, আলফালাহ ব্যাংকের পাঁচ জন, এইচএসবিসির ২৩০ জন, স্ট্যান্ডর্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ৮ হাজার ৪৬১ জন, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ১৭ জন, হাবিব ব্যাংকের ৭, সিটি ব্যাংক এনএর তিন জন, কর্মাশিয়াল ব্যাংক অব সিলনের ২৬ জন, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের ৩১, ওরি ব্যাংকের ৫ জন, কৃষি ব্যাংকের ৭ হাজার ৭৪ জন, বেসিক ব্যাংকের ২৩৩ জন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ৩৮২ জন, এবি ব্যাংকের ৯৮৪ জন, ইসলামী ব্যাংকের ৮৪৫ জন, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৯৩০ জন, সিটি ব্যাংকের দুই হাজার ৫৫৬ জন, আইএফআইসির এক হাজার ৭৮ জন, ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংকের দুই হাজার ৪১৮ জন, পূবালীর চার হাজার ৪১৪ জন, উত্তরার দুই হাজার ৬১ জন, আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ৭৬৭ জন, ইস্টার্ন ব্যাংকের দুই হাজার ২৩০ জন, এসসিসি ব্যাংকের ৭৯৩ জন, প্রাইম ব্যাংকের দুই হাজার ৬৭৯ জন ও সাউথ ইস্ট ব্যাংকে ৫০৫ জন গ্রহীতা ঋণ খেলাপী হয়েছেন।

এছাড়া ঢাকা ব্যাংকে দুই হাজার ৮৬১ জন, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের ৩৩৯ জন, ডাচ বাংলার ৩৩২ জন, মার্কেন্টাইলের এক হাজার ৭৫ জন, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ৫৬ জন, ওয়ান ব্যাংকের ৯০২ জন, এক্সিম ব্যাংকের ৯৬ জন, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৬৭৫ জন, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ১৬৭ জন, প্রিমিয়ারের এক হাজার ৩৬৮ জন, ফার্স্ট সিকিউরিটির ৯৯ জন, ব্যাংক এশিয়ার এক হাজার ২২০ জন, ট্রাস্ট ব্যাংকের ৩২৫ জন, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ১২২ জন, যমুনা ব্যাংকের ১১০ জন এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ২৯ হাজার ২০৩ জন গ্রহীতা খেলাপী হয়েছে বলে সংসদে জানান অর্থমন্ত্রী।

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে ২০১১-১২ অর্থ বছরের ২০ মে পর্যন্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে মোট এক লাখ ৪০ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার।

একই সময়ে ৯২ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এই সময়ের মধ্যে ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের পরিমাণ ৪৭ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা।”