ইসি শক্তিশালী করা মানে কি!

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ

যে কারণে ইসি শক্তিশালী করা জরুরি

এম সাখাওয়াত হোসেন | প্রথম আলো তারিখ: ২৭-০৬-২০১২

২১ জুন প্রথম আলোর শিরোনাম ‘নির্বাচন কমিশন নিজেকে ক্ষমতাধর মনে করছে’ দেখে প্রতিবেদনটি পড়লাম। প্রতিবেদক বিস্তারিতভাবে যেসব বিষয়ের উল্লেখ করেছেন, সেগুলো আরপিও (Representation of the People Order) বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অধিকতর সংস্কারের জন্য পূর্বতন নির্বাচন কমিশন(ইসি)—যার আমি একজন সদস্য ছিলাম—কর্তৃক সুপারিশকৃত কিছু ধারার পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংযোজনের জন্য সুপারিশকৃত বিষয়। এই অধিকতর সংস্কারে বেশ কিছু নতুন সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। এসব প্রস্তাব প্রস্তুতির সময় যথেষ্ট বিচার-বিবেচনা, অতীত অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করার বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা হয়েছিল। পরে আমাদের পূর্বতন উদ্ভাবিত প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় এসব প্রস্তাব নিয়ে সুশীল সমাজ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সম্পাদকেরা এবং সর্বোপরি কয়েকটি বিশেষ দল বাদে, নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের মতামতের ভিত্তিতে সুপারিশমালা আইনের সংশোধনীর খসড়া আকারে আইন মন্ত্রণালয়ে যথাযথ কার্য সম্পাদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। শুধু আরপিওর অধিক সংশোধনই নয়, একই সঙ্গে ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এবং জাতীয় সংসদের আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণবিষয়ক অর্ডিন্যান্সের কিছু সংস্কারেরও সুপারিশ করা হয়েছিল। কিছুদিন আগে পত্রপত্রিকা মারফত জানতে পারলাম যে আইন মন্ত্রণালয় আমাদের সব প্রস্তাবই পুনরায় বর্তমান কমিশনের কাছে পাঠিয়েছে তাদের মতামত গ্রহণের জন্য।
আইন মন্ত্রণালয়ে আমাদের সুপারিশগুলো বিবেচনার আগে বর্তমান কমিশনের মতামত নেওয়া হয়তো জরুরি মনে করেছে। করতেই পারে। তবে আমাদের সুপারিশগুলো ছিল বিগত পাঁচ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে প্রস্তুতকৃত এবং ওপরে উল্লিখিত শরিকদের (Stakeholder) মতামতে গৃহীত। আমাদের সুপারিশগুলোর উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচন কমিশনের হাতকে আরও শক্তিশালী করা। এসব সুপারিশই যে পর্যাপ্ত, তেমন চিন্তা করার অবকাশ নেই। সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া। তবে অনেক দিন থেকে অনেকভাবে প্রায় সব আঙ্গিক থেকে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার কথা অহরহ উচ্চারিত হচ্ছে। এই একটি বিষয়ে রাজনৈতিক মতভেদ নেই। বর্তমান সরকার ও বিরোধী দল উভয়ে এমনই আশা পোষণ করে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, কী করলে শক্তিশালী হবে, সে বিষয়ে আলোচনা শোনা যায় না। কারণ, বিষয়গুলো যথেষ্ট কারিগরি। শুধু নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁদের অভিজ্ঞতার আলোকেই এ ধরনের সুপারিশ হয়ে থাকে। আমরা সে উদ্যোগই নিয়েছিলাম।
আমি ওই পত্রিকার প্রতিবেদনের আলোকে আমাদের সুপারিশ করা অনেক বিষয়ের মধ্য থেকে মাত্র আরপিওতে নতুন সংযোজনের একটি অনুচ্ছেদের ওপর অত্যন্ত সংক্ষেপে আলোচনা করতে চাই। আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকারের সব ধাপের নির্বাচনসহ প্রায় পাঁচ হাজারের ওপরে ইউনিট নির্বাচন করেছি। শুধু নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়া পরবর্তী সব নির্বাচন—নয়টি উপনির্বাচনসহ দলীয় সরকারের অধীনেই সম্পন্ন করতে হয়েছে। নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু হলেও এর পেছনে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে। এসব নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে এবং আগে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোর পর্যালোচনা করতে গিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা আরপিওর অনুচ্ছেদ ৪৪ই-তে আরেকটি নতুন অনু-অনুচ্ছেদ সংযোজনের সুপারিশ করেছিলাম। সুপারিশটি ছিল, ‘নির্বাচনকালীন চারটি বিশেষ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কর্তৃক যেকোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার পূর্বে’ নির্বাচন কমিশনের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করা। এ চারটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ হলো ১. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ২. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং ৪. স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
ওপরে উদ্ধৃত পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বর্তমান নির্বাচন কমিশন আমাদের বিশাল অভিজ্ঞতার আলোকে প্রণীত সংশোধন ও সংযোজনগুলোর বেশির ভাগ বাদ দিতে চাইছে, যার মধ্যে আরপিও অনুচ্ছেদ ৪৪ই-তে আনীত সংযোজনও বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের মতে, এ ধরনের সংযোজনের কোনো প্রয়োজন আছে বলে বর্তমান কমিশন মনে করে না। তাদের (বর্তমান কমিশন) মতে, বিভিন্ন সময়ে প্রদেয় মন্তব্য, দ্রষ্টব্য—নির্বাচন কমিশন এ ধরনের সংস্কার প্রস্তাবের সংযোজন ছাড়াই যথেষ্ট শক্তিশালী রয়েছে। তাদের মতে, আরপিওতে এ ধরনের সংযোজনের প্রয়োজন নেই। নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের সিদ্ধান্ত অবশ্যই বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নয়। কারণ বর্তমান কমিশন সে অভিজ্ঞতা এখনো অর্জন করেনি। লক্ষণীয় বিষয় হলো, বর্তমান কমিশন ৪৪ই প্রস্তাবিত সংযোজনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব না করলেও খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যরাও মনে করেন, কমিশনের হাত আরও শক্ত করতে হলে এ ধরনের সংযোজনের প্রয়োজন রয়েছে।
যা-ই হোক, আমি মনে করি, বাস্তব অভিজ্ঞতাবিবর্জিত এ ধরনের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী বলে প্রমাণিত হবে। যেহেতু বর্তমান কমিশন এখন পর্যন্ত বড় আকারের নির্বাচনে লিপ্ত থাকেনি বা অনুষ্ঠিত করতে পারেনি, সেহেতু তারা সে রকম অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে পারেনি। আমার মনে হয়, ৪৪ই অনুচ্ছেদ বাদ দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা বিশেষ কোনো যুক্তিনির্ভর নয়। মনে হয় কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে প্রভাবিত।
যে ধারা বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে ধারাটি আমরা বহু আলোচনা, অতীত নির্বাচনগুলোর বিভিন্ন সমস্যার পর্যালোচনা এবং আমাদের মেয়াদকালের বিভিন্ন নির্বাচনে উদ্ভূত পরিস্থিতির মূল্যায়নের পর এ ধরনের যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। আমার মনে হয়, অতি সংক্ষেপে দু-একটি উদাহরণ বিষয়টি হূদয়ঙ্গম করতে সহায়ক হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচনে প্রশাসনে রদবদলের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মানা হলে যেসব কর্মকর্তাকে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়, তাঁদের নথিপত্র ও পূর্বতন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের অজানা থেকে যায়। কারণ, কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত তথ্যাদি আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের তলব করার এখতিয়ারে পড়ে না। অনেক সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিশেষ করে ভূমি প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, যেগুলো নিয়ে মাঠপর্যায়ে সমতল ক্ষেত্র তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে।
কোনো এক সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে কয়েকটি সংস্কার কর্মকাণ্ড নিয়েও নির্বাচনে প্রশাসনের প্রভাব ছড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। বিভিন্ন নির্বাচনের সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছু কিছু একতরফা নির্দেশনা নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার মতো ছিল, যা পরে নির্বাচন কমিশনকে সামাল দিতে হয়েছে। এ ধরনের বহু উদাহরণ রয়েছে, যেগুলো উল্লেখ করা এই স্বল্প পরিসরে সম্ভব হবে না। বেশ কয়েকটি উপনির্বাচন পরিচালনা করতে গিয়ে আমাদের এ ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এগুলো সম্ভব হয়েছে বিভিন্ন আইনে অসামঞ্জস্যতার কারণে।
এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই, আমাদের সুপারিশে কোনো মন্ত্রণালয়কে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা চাওয়া হয়নি। সুপারিশ করা হয়েছে শুধু পূর্বালোচনার মাধ্যমে মতামত গ্রহণের। নির্বাচন কমিশন কোনো মন্ত্রণালয় পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারে না এবং উচিতও হবে না। আমাদের সুপারিশ শুধু কোনো বিশেষ সরকারব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে করা হয়নি, বরং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত মোতাবেক যে ধরনের সরকারই ওই সময় থাকুক না কেন, ওই সরকারের অধীন এসব মন্ত্রণালয় আইনের দ্বারা মতামত গ্রহণে বাধিত থাকবে। ইতিপূর্বে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কোনো রকম পূর্বালোচনা ছাড়া কোনো এক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একক সিদ্ধান্তে তিনবার মাঠপর্যায়ে প্রশাসনকে রদবদল করা হয়েছিল। সে কারণেই কোনো নির্দিষ্ট সরকারের কথা বলা হয়নি। বস্তুতপক্ষে, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে দুই পক্ষের বিবাদ সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত সংবিধানের ওই সংশোধনীর আওতায় নির্বাচন করাতে হলে পূর্ব সুপারিশগুলো ছাড়াও আরপিওর বহু জায়গায় আরও সংযোজন ও পরিবর্ধনের প্রয়োজন হবে।
মন্ত্রণালয়ের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পূর্বালোচনার প্রক্রিয়া বাংলাদেশে প্রথম উত্থাপিত হলেও এ ব্যবস্থা আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে চালু রয়েছে। ভারতে নির্বাচনের সময়ে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে রাষ্ট্রীয় সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয় অন্তর্বর্তী সময়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে, ক্ষেত্রমতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন অথবা রাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তার মতামত গ্রহণ করে থাকে। ভারতেও মন্ত্রণালয়গুলো শুধু মতামত গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়।
আমি সংক্ষেপে প্রথম আলোয় পরিবেশিত দীর্ঘ প্রতিবেদনের উল্লিখিত আরপিওতে সংযোজনের জন্য পূর্ব কমিশন কর্তৃক সুপারিশ করা একটি অনুচ্ছেদ, ৪৪ই নিয়েই আলোচনা করে এর প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীয়তার বিষয় তুলে ধরলাম। বিষয়টি পত্রপত্রিকায়, নিয়মিত টক শো ও বহু কলামে আলোচিত হয়েছে। এই সুপারিশ রাজনৈতিক দল কর্তৃক গৃহীত হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের বিপরীতমুখী অবস্থান অতীতেও ছিল না, এখনো নেই। সন্দেহ নেই যে বর্তমানে নির্বাচনী আইন অতীতের যেকোনো সময় থেকে অধিকতর শক্ত, তথাপি আরও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নির্বাচনী সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। কাজেই সংস্কারের প্রয়োজন থাকলে সেগুলো সময়মতো গ্রহণ করতেই হবে।
ওপরে আলোচনার আঙ্গিকে, একজন নির্বাচন কমিশনার হিসেবে পাঁচ বছরের পূর্ণ মেয়াদে অত্যন্ত কঠিন সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ প্রায় পাঁচ হাজার ইউনিট নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে আমি বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমি মনে করি, যেহেতু বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বড় ধরনের নির্বাচনের এবং বহুবিধ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা এখনো হয়নি, কাজেই শুধু তাত্ত্বিক আলোচনার ফলে পূর্বতন কমিশনের সুপারিশগুলো নাকচ করা সমীচীন নয়। উল্লেখ্য, এসব সুপারিশ পূর্বতন কমিশনের এককভাবে প্রণীত নয়, বরং বহুল আলোচনার পর বিভিন্ন পক্ষের মতামত এবং পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে প্রণীত।
ওপরে আলোচিত কারণগুলো ছাড়াও আরও উল্লেখ করতে হয় যে, দেশের সচেতন জনগণ, সুশীল সমাজ ও রাজনীতিবিদেরা মনে করেন, নির্বাচন কমিশন আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করুক। যদিও সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৯-এর অধিকতর ব্যাখ্যায় প্রতীয়মান হয় যে কমিশনের হাতে প্রচুর ক্ষমতা রয়েছে, তথাপি সাদাকালো হরফে আইনের প্রয়োজন রয়েছে। সে কারণেই সংবিধানের আওতাতেই আরপিওতে প্রদেয় ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়। এ কারণেই নির্বাচনী আইনের সংস্কারের প্রস্তাব। দেশের গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার প্রেক্ষাপটেই সচেতন জনগণ কমিশনের হাত শক্ত করতে চায়, সে কথা বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই অনুধাবন করতে হবে। অন্যথায় নির্বাচন কমিশনকে সচেতন নাগরিকদের বিপক্ষে দাঁড়াতে হবে। সে পরিস্থিতি কারোরই কাম্য নয়।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.): সাবেক নির্বাচন কমিশনার, কলাম লেখক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক। hhintlbd@yahoo.com