Budget 2012-13 passed today

জাতীয় সংসদে আগামী ২০১২-১৩ অর্থবছরের সরকারের রাজস্ব আয়সংক্রান্ত অর্থবিল পাস হয়েছে

This June 7 file photo shows Finance Minister AMA Muhith presenting budget in the Jatiya Sangsad

The Jatiya Sangsad, with the main opposition BNP abstaining, on Thursday passed the budget for the 2012-13 fiscal year with the highest allocation given to the defence ministry.

সহজে বুঝা বাজেট

Finance minister AMA Muhith placed the bill for expenditure in the next FY in presence of Prime Minister Sheikh Hasina.

The budget to be implemented from July 1 outlines Tk 2,83,599 crore of gross expenditure, which is 22 percent more than the outgoing FY.

In the budget, however, the net expenditure is Tk 1,91,738 crore.

Budget at a glance (pdf files)

Budget at a glance

Budget Speech_english

Like every year the defence ministry has received the maximum allocation of Tk 12,986 crore for the next FY among 56 ministries and divisions.

The local government division received the second highest allocation of Tk 12,436 crore followed by the education ministry Tk 11,599 crore and food division Tk 10,146 crore.

Besides, the primary and mass education ministry got Tk 9,832 crore while the health and family welfare ministry got an allocation of Tk 9,355 crore.

In the budget for next FY the GDP target has been fixed at 7.2 percent. In the outgoing FY the GDP growth target was 7 percent but Bangladesh Bureau of Statistics (BBS) estimated it to be 6.3 percent.

Last Wednesday Finance Minister AMA Muhith in his concluding speech said, “I still believe in the current fiscal year GDP growth will be nearly 7 percent. In the next FY 7.2 percent GDP growth will surely be achieved.”

The finance minister mentioned a number of risks in implementing the budget for the next FY.

He said, in the next FY the risks are uncertainty in external trade and ups and downs in commodity prices in the international market.

Muhith also said, “Internal risk is political instability, not economic weakness at all’.

He, however, said good news is that the petroleum price has come down below $100 from $140.

বাজেটের কর প্রস্তাবের বড় সংশোধন মুঠোফোনের বিলের ওপর কর প্রত্যাহার, রপ্তানি আয়ে উৎসে কর দশমিক ৮০%

করমুক্ত আয়ের সীমা দুই লাখ টাকা

বিশেষ প্রতিনিধি | তারিখ: ২৮-০৬-২০১২

বেশ কিছু ক্ষেত্রে কর, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর কমানো ও প্রত্যাহার এবং ব্যক্তিশ্রেণীর করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে আগামী ২০১২-১৩ অর্থবছরের সরকারের রাজস্ব আয়সংক্রান্ত অর্থবিল পাস হয়েছে।
পরিবর্তনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: মোবাইল ফোনের মোট বিলের ওপর ২ শতাংশ হারে কর প্রত্যাহার, করমুক্ত আয়ের সীমা দুই লাখ টাকায় উন্নীত করা, রপ্তানি আয়ের উৎসে দশমিক ৮০ শতাংশ হারে কর কর্তন, এক লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক আমানতকে সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখা ইত্যাদি। আজ বৃহস্পতিবার প্রস্তাবিত বাজেট পাস হবে।
স্পিকার আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে গতকাল বুধবার সংশোধিত অর্থবিলটি পাস হয়। এর আগে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে নয়টি ক্ষেত্রে কর প্রত্যাহার বা কমানোর প্রস্তাব করেন। পরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘এগুলো সব সময় গ্রহণ করি ও এখানেও কোনো ব্যত্যয় হবে না। বাস্তবে অর্থমন্ত্রী এককভাবে কোনো বাজেট করেনও না।’ এগুলোসহ সব মিলিয়ে ১১ সংশোধনীসংবলিত অর্থবিল সংসদে পাস করা হয়। তবে অর্থবিলসংক্রান্ত ২১টি সংশোধনী প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
অর্থ আইনে কর আদায়ের পরিকল্পনায় বেশ কিছু সংশোধন আনা হলেও আগামী অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা অর্থমন্ত্রী প্রস্তাব করেছিলেন, তা একই রাখা হয়েছে। অর্থাৎ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা। একইভাবে মোট বাজেট ব্যয় অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুসারে এক লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকাই থাকছে। এতে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), সম্পূরক শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের পর একই পরিমাণ আয় ও ব্যয় কীভাবে সম্ভব হবে। এ বিষয়ে সংসদে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যে কোনো ব্যাখ্যা ছিল না।
সংশোধন: পাস হওয়া অর্থবিল অর্থাৎ অর্থ আইন, ২০১২ অনুসারে ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বর্তমানে প্রচলিত এক লাখ ৮০ হাজার টাকার পরিবর্তে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। আর নারীদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য সীমা দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তবে ব্যক্তিশ্রেণীর সর্বনিম্ন করের পরিমাণ প্রস্তাব করা হয়েছিল তিন হাজার টাকা, সেটাই থাকছে।
বাজেটে মোবাইল ফোনের বিলের ওপর ২ শতাংশ হারে যে কর প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বাজেটে সব ধরনের আমানতের ওপর সুদ আয়কে টিআইএন না থাকলে ১৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তনের প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু অর্থ আইনে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক আমানতকে পুরোপুরি করমুক্ত করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি জেনেছেন, ৮০ শতাংশ সাধারণ মানুষ এই এক লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংকে আমানত রাখেন।
বাজেটে সব ধরনের রপ্তানির ক্ষেত্রে আয়ের ওপর ১ দশমিক ২০ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তনের প্রস্তাব করেছিলেন অর্থমন্ত্রী। গতকাল তা সংশোধন করে শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশ করা হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কম্পিউটারের বিল্ট ইন সফটওয়্যারকে সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ২২ ইঞ্চি পর্যন্ত মনিটরে কর অব্যাহতির প্রস্তাব করেছিলেন। তবে তিনি ১৯ ইঞ্চি মনিটর পর্যন্ত কর অব্যাহতি বিবেচনার জন্য বলেন। আর বাকিটা ছেড়ে দেন অর্থমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর। অর্থমন্ত্রী ২২ ইঞ্চি পর্যন্তই কর অব্যাহতির ঘোষণা করেন। ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের জন্য ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যবসাকেও সম্পূর্ণ করমুক্ত করা হয়েছে।
ব্যবসায়ে লেনদেন কর ঢালাওভাবে আরোপ না করে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনে মূল্য সংযোজন কর প্যাকেজ ব্যবস্থার আওতায় বহাল রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী তা বহাল রাখেন। তবে প্যাকেজের প্রতিটি ক্ষেত্রে কিছু হার বাড়বে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
অ্যালুমিনিয়াম ও তৈজসপত্রকে কর অব্যাহতির মধ্যে রাখা হয়েছে। তবে কাচের তৈজসপত্রের ৪৫ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্ক অব্যাহত থাকছে। আর সিআর কয়েলের ওপর ১০ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্ক অব্যাহত রেখে ৫ শতাংশ হারে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।
জীবনবিমা গ্রাহকের মুনাফার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটার প্রস্তাব করেছিলেন অর্থমন্ত্রী। গতকাল তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
মোটরসাইকেলের তেলের ট্যাংক ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রাংশের আমদানির ওপর প্রস্তাবিত শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে টিউব লাইটে এটা থাকবে। অন্যদিকে প্রস্তুত পণ্যে শুল্ক বাড়বে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
১০ শতাংশ হারে জরিমানা দিয়ে কালোটাকা সাদা করে তা যেকোনো বিনিয়োগে খাটানোর ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে দেশে নানা বিতর্কের বিষয়টি সংসদে খণ্ডন করেন। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি এ বছর ৭ শতাংশের কাছাকাছিই হবে। আর আগামী বছর তা ৭ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা তুলে ধরে বলেন, মূল্যস্ফীতি কমানোর কৌশল তাঁর বাজেটে রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে কিছু ঝুঁকির দিকও তুলে ধরেন। বলেন, বহির্বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা ও পণ্যমূল্যের ওঠানামা হচ্ছে বিশ্ববাণিজ্যের ঝুঁকি। আর অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অস্থিরতা হচ্ছে ঝুঁকির আরেক কারণ।
স্বতন্ত্র সদস্য ফজলুল আজিম অর্থবিল সংশোধনের কয়েকটি প্রস্তাব আনেন। তবে তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়। সামষ্টিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ফজলুল আজিম অর্থমন্ত্রী ও সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, অভ্যন্তরীণ অবস্থা, পুঁজিবাজার পরিস্থিতি—এসব বিবেচনা না করেই অর্থমন্ত্রী এ বাজেট পাসের প্রস্তাব দিয়েছেন।