সিপিবি-বাসদের ‘যৌথঘোষণা’

মুভফরওয়ার্ল্ড ডট কম; ঢাকা, জুলাই ৪:

বাম-গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বলয় গড়ে তুলতে বামপন্থী, প্রগতিশীল গোষ্ঠী ও ব্যক্তিসহ দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানিয়ে এক যৌথঘোষণা

দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি(সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল(বাসদ)।

মঙ্গলবার পল্টনে মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ১৫ দফা ‘বিকল্প কর্মসূচি’সহ এ ঘোষণা পাঠ করা হয়।

সিপিবি’র সহ-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমদ-এর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সভাপতি, সিপিবি-বাসদ যৌথ ঘোষণার যুগ্ম-আহ্বায়ক মনজুরুল আহসান খান। ঘোষণা ও ১৫ দফা বিকল্প কর্মসূচি পাঠ করেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক এবং সিপিবি-বাসদ যৌথ ঘোষণার যুগ্ম-আহ্বায়ক কমরেড খালেকুজ্জামান।

‘লুটেরা-ধনিক শ্রেণীর দ্বি-দলীয় রাজনীতি বর্জন করুন/ জনগণের নিজস্ব বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলুন’ – শিরোনামের ঘোষণায় বলা হয় –

‘…সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু পুঁজিপতি ধনিক শ্রেণীর দল হিসাবে আওয়মী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত এ সব দলের দ্বারা কাক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। কারণ, বিগত ৪০ বছরের অভিজ্ঞতাই এর প্রমাণ। এ জন্য প্রয়োজন বর্তমান আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কেন্দ্রিক লুটেরাধনীক শ্রেণির দ্বি-দলীয় রাজনীতির বাইরে জনগণের বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি সমাবেশ গড়ে তোলা। যে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী, প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী স্বাধীন জাতীয় অর্থনীতি ও রাজনীতির বিকাশ ঘটাবে।’

সংবাদ সম্মেলনে এ দুই বাম রাজনৈতিক দল কতৃক যৌথভাবে ঘোষিত ১৫ দফা ‘বিকল্প কমর্সূচি’ হলো: –

১. মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত সংবিধানের সকল বিকৃতি ও অসম্পূর্ণতা দূর করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণআকাক্সক্ষার আলোকে সংবিধানকে আরো গণতান্ত্রিক ও গণমুখী করা।
২. ৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত করা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-গণআকাক্সক্ষার পুনর্জাগরণ ঘটানো।
৩. রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বন্ধ এবং রাষ্ট্রের সকল অগণতান্ত্রিক কালো আইন বাতিল করা। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশী হস্তক্ষেপ বন্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ আইন প্রণয়ন।
৪. সকল প্রকার অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও কালো টাকার পুঁজি রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নিয়ে আসা।
৫. ঘুষ-দুর্নীতি, দলীয়করণ, দুঃশাসন-অনিয়ম এবং লুটপাট ও দখলদারিত্ব রোধ করা ও আইনের আওতায় আনা। আদর্শবাদী রাজনীতির পুনর্জাগরণ ঘটানো।
৬. খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। খাদ্য পণ্যের সিন্ডিকেট ভাঙ্গা ও মধ্যসত্ত্বভোগীদের আধিপত্য বিলোপ করা। সর্বস্তরে রেশনিং ব্যবস্থা চালু। টিসিবিকে সক্রিয় করে ন্যায্য মূল্যের বিক্রয় কেন্দ্র খোলা। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধ ও সমবায় চালু করা।
৭. ৮০০০ টাকা ন্যূনতম জাতীয় মুজরি নির্ধারণ করা এবং মহার্ঘ ভাতা চালু করা। ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করে শ্রমজীবী মানুষের অনুকূলে শ্রমনীতি ও শ্রম আইন প্রণয়ন করা।
৮. আমূল ভূমি সংস্কার করা। গ্রাম-শহর সর্বত্র জমির সিলিং করা। সার-বীজসহ কৃষি উৎপাদন সহায়তা ও কৃষি পণ্যের লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করতে কৃষি ভর্তুকি, হাট-বাজারে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র খোলা। ক্ষেতমজুরদের রেজিস্ট্রেশন করাসহ কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা বিধান। এনজিও ও অন্যান্য খাত থেকে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতার স্বার্থ সংরক্ষণের ব্যবস্থা ও আইন প্রণয়ন করা।
৯. গ্যাস-বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ বৃদ্ধি নিশ্চিত করা, বাড়ী ভাড়া ও গাড়ী ভাড়া যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে আনা ও পরিবেশ দূষণসহ যাতায়াত সংকট দূর করা। রেল-নৌপথ সম্প্রসারণসহ গণ-পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা।
১০. রাষ্ট্রীয় খরচে সকলের জন্য বৈষম্যহীন শিক্ষা এবং সকল নাগরিকের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা।
১১. মালিকানা জনগণের-এই নীতির ভিত্তিতে জাতীয় সকল সম্পদ অনুসন্ধান, সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা।
১২. বাংলাদেশকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ চক্রান্ত ও আধিপত্যবাদী নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখা। জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা।
১৩. রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের সর্ব ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সম-অধিকার নিশ্চিতকরণ
১৪. আদিবাসি ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান ও তাদের ন্যায্য অধিকার এবং ভাষা-সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো।
১৫. প্রকৃতি ও পরিবেশের বিপর্যয় রোধ, জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করা।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সেলিম বলেন, সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সাধারণ নির্বাচন করতে হলে আদালতের রায় অনুসরণ করে আগামী দুইটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছা থাকলে আইনসংগতভাবেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাসদ নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য সুহিদুল্লাহ চৌধুরী, হায়দার আকবর খান রনো, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, জাহেদুল হক মিলু, রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য লক্ষ্মী চক্রবর্তী, শাহীন রহমান, সাজ্জাদ জহির চন্দন প্রমুখ।