জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিয়েই যাত্রা শুরু হোক উপাচার্য নির্বাচন

প্রথম আলো সম্পাদকীয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০ জুলাই উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যে কাজটি গত সাড়ে তিন বছরেও করতে পারেননি, মো. আনোয়ার হোসেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মাথায় তা করতে সক্ষম হলেন। এ জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।
দেশের চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী পরিচালিত হলেও বর্তমানে একটিতেও নির্বাচিত উপাচার্য নেই। সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়ে তাঁরা জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছেন এবং নানা ছলছুতায় নির্বাচন ঠেকিয়ে রেখেছেন। সেদিক দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করি।

JU to nominate VC panel July 20

Prof Anwar takes over as JU VC

JU caught in a VC-ious web

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে, আরও অনেক বিষয়ের মতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের ব্যাপারে মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেননি। এক পক্ষ নির্বাচনের ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও অন্য পক্ষ বিরোধিতা করছে। তাদের যুক্তি, বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের যে ১৫ জন সদস্যের মেয়াদ পার হয়ে গেছে, সেসব শূন্যপদ পূরণের আগে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেছেন, ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ সদস্যদের ব্যাপারেও ’৭৩-এর অধ্যাদেশ মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
সে ক্ষেত্রে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করা সমীচীন নয়। ঘোষিত তারিখেই উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন করতে হবে। আর এই নির্বাচন যেহেতু সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের, সেহেতু কোনো সংগঠনের নামে জিন্দাবাদ বা নিন্দাবাদ দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। সাবেক উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষকেরা যে আন্দোলন করেছিলেন, তাতেও নির্বাচিত উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছিল। সেই আন্দোলনে জয়ী হওয়ার পর এখন উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের বিরোধিতা করার যুক্তিসংগত কারণ থাকতে পারে না।
অতএব, নির্ধারিত তারিখেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন হোক এবং সেই নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট সবাই সহযোগিতা করবেন—এটাই প্রত্যাশিত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় একজন নির্বাচিত উপাচার্য পেলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও সেই নীতি অনুসরণ করবে, আশা করা যায়। এই বিরল গৌরব জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকেরা কেন হাতছাড়া করবেন?