কয়লা আমদানির বিকল্প নেই: উপদেষ্টা

ঢাকা, জুলাই ১১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশের কয়লা ব্যবহার চাইলেও তুলতে সময় লাগার কারণে আমদানি করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী।

বুধবার সিরডাপ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “অনেকেই কয়লা আমদানির সমালোচনা করছেন। কিন্তু আমরা যদি তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চাই, তাহলে আমদানি করতে হবে।

“কারণ নিজেদের খনি থেকে কয়লা উত্তোলন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গেলে পাঁচ থেকে ১০ বছর লেগে যাবে।”

তবে দেশের কয়লা ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজেই লাগানো হবে বলে উপদেষ্টা জানান।

কয়লাভিত্তিক তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে গত ২৭ জুন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার। ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বাগেরহাটের রামপালে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রও হচ্ছে। এই কেন্দ্রগুলোর কয়লা আমদানি হবে।

বর্তমানে বড়পুকুরিয়া খনি থেকে তোলা কয়লা দিয়ে ২৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সরকারি একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চলছে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি হিসেবে কয়লার ব্যবহার দেশে সামান্য।

সরকারের হিসাবে, ২০১২ সালে বিদ্যুতের মোট উৎপাদনের ২ শতাংশ আসছে কয়লা থেকে। যেখানে গ্যাস ব্যবহার করে ৭৮ শতাংশ এবং তেল ব্যবহার করে উৎপাদন করা হবে ১৭ শতাংশ।

দেশে পাঁচটি কয়লা খনি থাকলেও সরকারের সিদ্ধান্ত না থাকায় শুধু একটি খনি থেকে স্বল্প মাত্রায় কয়লা তোলা হচ্ছে, যা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য অপর্যাপ্ত। গত এক দশকে কয়লা নীতিও চূড়ান্ত করতে পারেনি সরকার।

জ্বালানি খাত বিষয়ক সাময়িকী ‘এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার’-এর ১০ বছর পূর্তিতে ‘বাংলাদেশে কয়লা উত্তোলনে চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য রাখেন তৌফিক-ই ইলাহী।

সেমিনারে বেশিরভাগ বক্তাই উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করে তা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারের পরামর্শ দেন। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন পরিবেশের ক্ষতি করবে বলে এতে আপত্তি জানিয়ে আসছেন অনেক বিশেষজ্ঞও।

সেমিনারে এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি আনিসুল হক বলেন, “কয়লার বিষয়টি সমাধান না হওয়াটা আশ্চর্যজনক বিষয়। চায়না, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি যদি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে পারে তাহলে আমরা পারছি না কেন। সেসব দেশে কি পরিবেশ নেই, পুনর্বাসন নেই?”

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুবিদ আলী ভূঁইয়া উন্মুক্ত পদ্ধতির পক্ষে নিজের অবস্থান প্রকাশ করে বলেন, “আমার মনে হয় বেশিরভাগ কয়লা উত্তোলন করতে পারব উন্মুক্ত পদ্ধতিতে গেলে। আর ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে গেলে পাঁচ থেকে ৬ শতাংশ কয়লা উৎপাদন করা যাবে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম এই নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতার জন্য রাজনীতিকেই দায়ী করেন।

তিনি বলেন, “কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি গত ১৫ বছরে একধাপ এগোয়নি। উন্মুক্ত পদ্ধতি না ভূগর্ভস্থ পদ্ধতি এসব কারিগরি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু না। মূল সমস্যা ফুলবাড়ি কয়লাখনি একটা রাজনৈতিক ফুটবল হয়ে গেছে। এটা নিয়ে রাজনীতিবিদরা খেলা করেন।”

পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন যেখানে যে পদ্ধতি ‘সম্ভব’ সেখানে সে পদ্ধতিতে কয়লা তোলার পরামর্শ দেন।

উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলার ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পুনর্বাসন ব্যবস্থার জন্য সরকারকে পরামর্শ দেন কয়েকজন বক্তা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে তৌফিক-ই ইলাহী বলেন, “পুনর্বাসন করা সহজ। কাউকে ভালো জীবনের সন্ধান দিলে যে কেউ তা নিতে চাইবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো খনির ওপরে যে পানির স্তর রয়েছে, তা নিয়ে।”

এফবিসিসিআই সভাপতি এ কে আজাদ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের প্রকল্প পড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করে এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেন।