Govt makes fun out of Dhaka’s ‘Mega City’ label (ঢাকা নাকি মেগাসিটি না!)

প্রথম আলো আগস্ট ১৬, ২০১২

রাজধানী ঢাকার ‘মেগাসিটি’ পরিচয় মুছে দিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। প্রতিষ্ঠানটি সর্বশেষ আদমশুমারি ও গৃহগণনায় মেগাসিটির সংজ্ঞা ও ঢাকা মেগাসিটির সীমানা নির্ধারণ করেনি।

১৯৯১ ও ২০০১-এর আদমশুমারিতে মেগাসিটির ধারণা ও ঢাকা মেগাসিটির সীমানা ছিল। ২০০১ সালের আদমশুমারি প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা মেগাসিটির আয়তন এক হাজার ৩৭১ বর্গকিলোমিটার। তখন ঢাকা মেগাসিটির আওতায় ঢাকা সিটি করপোরেশন (বর্তমানের ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন), নারায়ণগঞ্জ, কদম রসুল, টঙ্গী, গাজীপুর ও সাভার পৌরসভা এবং বাড্ডা (আংশিক), বিমানবন্দর (আংশিক), ডেমরা (আংশিক), হাজারীবাগ (আংশিক), কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, সবুজবাগ (আংশিক), শ্যামপুর (আংশিক) ও উত্তরা (আংশিক) থানা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে ঢাকা মেগাসিটির সীমানা এবং এ-সম্পর্কিত কোনো তথ্য বা পরিসংখ্যান পাওয়া যাবে না।

According to a recent survey by Economist Intelligence Unit, Dhaka is the world’s least livable city, coming in last with a score of 38.7.

দক্ষিণ এশিয়ার মেগাসিটিগুলোর জনসংখ্যা, জনঘনত্ব, অভিবাসন হার নিয়ে গবেষণা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের শিক্ষক এ কে এম নূর-উন-নবী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘যদি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মেগাসিটির সংজ্ঞা ও সীমানা নির্ধারণ না করে, তাহলে পরিসংখ্যানের ধারাবাহিকতা নষ্ট হবে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নগরায়ণবিষয়ক পরিসংখ্যানের তুলনাযোগ্যতা কমে যাবে।’ তিনি বলেন, সরকার এটা কেন করল, তা সুস্পষ্টভাবে জানা দরকার।

‘আদমশুমারি ও গৃহগণনা ২০১১’-এর প্রকল্প পরিচালক অসীম কুমার দে বলেন, মেগাসিটি কোনো প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে পড়ে না। সরকারের কোনো মন্ত্রণালয় এর দায়িত্বে নেই। তাই এ বছরের আদমশুমারিতে মেগাসিটির ধারণা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি জানান, শুমারি কর্মকাণ্ডের শুরুতে এক সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেগাসিটির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

মেগাসিটি ও ঢাকা: এক কোটি বা এর বেশি লোক বাস করে এমন বড় শহরকে জাতিসংঘ মেগাসিটি বলছে। জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিক বিষয়-সম্পর্কিত বিভাগের জনসংখ্যা শাখা মেগাসিটির তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় দেখা যায়, ১৯৭৫ সালে জাপানের টোকিও, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক এবং মেক্সিকোর মেক্সিকো সিটি ছিল মেগাসিটি। ২০০৭ সালে মেগাসিটির তালিকায় ১৯টি শহর স্থান পায়। এ তালিকার ৯ নম্বরে আছে ঢাকার নাম। জাতিসংঘের হিসাবে ওই বছর ঢাকা মেগাসিটির জনসংখ্যা ছিল এক কোটি ৩৫ লাখ। জাতিসংঘের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ২৭টি শহর মেগাসিটির চরিত্র অর্জন করবে। ওই তালিকার চার নম্বরে ঢাকা। তখন ঢাকার জনসংখ্যা বেড়ে হবে দুই কোটি ২৫ লাখ।

নগরবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী পৃথিবীর গুটিকয়েক মেগাসিটির একটি ঢাকা। আন্তর্জাতিকভাবেও ঢাকা মেগাসিটি হিসেবে পরিচিত। নগরগুচ্ছকেই বলা হয় মেগাসিটি। নগরায়ণের মাত্রা বা পর্যায় বোঝার জন্য মেগাসিটির ধারণা ব্যবহার করেন নগর ও পরিকল্পনাবিদেরা। ঢাকার মেগাসিটির পরিচয় মুছে ফেলার উদ্যোগ দুঃখজনক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার নানা পরিচয় আছে। প্রথমত, ঢাকা সিটি করপোরেশন (এখন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন)। এর সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক সীমানা রয়েছে। এর আয়তন ১৪৫ বর্গকিলোমিটার। দ্বিতীয়ত, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা (ডিএমএ), এর আয়তন ৩০৬ বর্গকিলোমিটার। তৃতীয়ত, ঢাকা স্ট্যাটিস্টিক্যাল মেট্রোপলিটন এলাকা (ডিএসএমএ)। ১৯৯১ সালে ডিএসএমএর আয়তন ছিল এক হাজার ৩৫৩ বর্গকিলোমিটার। ডিএসএমএকে ১৯৯১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা মেগাসিটির স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
২০০১ সালের আদমশুমারি ও গৃহগণনায়ও মেগাসিটির উল্লেখ ছিল। তখন ঢাকা মেগাসিটির জনসংখ্যা ছিল এক কোটি সাত লাখ ১২ হাজার।

১০ বছর পর ২০১১ সালের শুমারিতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা/মিউনিসিপ্যালিটি এলাকা এবং অন্যান্য শহর এলাকা—এই তিনভাবে শহর এলাকাকে ভাগ করা হয়। এ ক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা। ঢাকা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে শহরের বৈশিষ্ট্য আছে এমন ১৭টি ইউনিয়নকে মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে ফেলা হয়েছে।

অসীম কুমার দে বলেন, শুমারির সময় প্রশাসনিক কাঠামো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। গণনায় দেখা গেছে, ডিসিসিতে (ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন) ৬৯ লাখ ৭০ হাজার মানুষ বাস করে। ডিসিসির সঙ্গে ১৭টি ইউনিয়ন যুক্ত করলে হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন সিটি এলাকা। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের। ওই ১৭টি ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৮ লাখ ৭৬ হাজার। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার জনসংখ্যা ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের জনসংখ্যা বিভাগের পরিচালক ও বিশিষ্ট জনসংখ্যাবিদ পিটার কিম স্ট্রিডফিল্ড বলেন, আগের পর পর দুটি আদমশুমারি ও গৃহগণনায় মেগাসিটির ধারণা ও পরিসংখ্যান ছিল। পরিকল্পনার ধারাবাহিকতার স্বার্থে শুমারিগুলোর মধ্যে পরম্পরা বজায় রাখা দরকার।

ঢাকায় মানুষ কত: পৃথিবীর যেসব শহরে অতি দ্রুত মানুষ বাড়ছে ঢাকা তার শীর্ষে। জাতিসংঘ ১৯৭৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত দ্রুততম গতিতে মানুষ বাড়ছে এমন ১০টি শহরের তালিকা তৈরি করে। এই তালিকার শীর্ষে ছিল ঢাকা মেগাসিটি। ওই সময়ব্যাপী ঢাকায় বছরে গড়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। জাতিসংঘের হিসাবে ২০০৭ সালে ঢাকা মেগাসিটির জনসংখ্যা ছিল এক কোটি ৩৫ লাখ। ২০১৫ সালে হবে এক কোটি ৭০ লাখ। এর ১০ বছর পর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ঢাকা মেগাসিটির জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে দুই কোটি ২৫ লাখে।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে ২০০১ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় বাস করত ৫৩ লাখ মানুষ। ওই সময় ঢাকা মেগাসিটিতে বাস করত এক কোটি সাত লাখ মানুষ। সর্বশেষ আদমশুমারি ও গৃহগণনা বলছে, ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬৯ লাখ ৭০ হাজার মানুষের বসবাস। আর ঢাকা মেট্রোপালিটন এলাকায় ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার মানুষের বসবাস।

তবে পুলিশের তথ্য অন্য রকম। মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে ৪০ হাজার মানুষ বাস করে। সেই হিসাবে মেট্রোপলিটন এলাকায় এক কোটি ৬৬ লাখ মানুষের বাস। ১০ বছর আগে জনসংখ্যা ছিল প্রায় এক কোটি। এই হিসাব আনুমানিক।

অধ্যাপক এ কে এম নূর-উন-নবী বলেন, বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে ঢাকা মেগাসিটি। আন্তর্জাতিকভাবে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে এই মেগাসিটিকে কেন্দ্র করে। ঢাকা ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) বা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনেক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে আছে মেগাসিটির ধারণা। এই ধারণা থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, এখনো আদমশুমারির প্রতিবেদন ছাপা হয়নি। সংজ্ঞা ও সীমানা নির্ধারণ করে ঢাকা মেগাসিটির পরিসংখ্যান প্রকাশ করা উচিত।