Humayun Ahmed’s chehlam observed in Nuhash Palli

গাজীপুর, অগাস্ট ২৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের চেহলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে মঙ্গলবার।

এ উপলক্ষে দুপুরে নুহাশ পল্লীতে মিলাদ, দোয়া মাহফিল, কবর জিয়ারত ও বিভিন্ন এতিমখানার শিশুদের খাওয়ানো হয় বলে জানিয়েছেন নুহাশ পল্লীর ব্যবস্থাপক মো. সাইফুল ইসলাম বুলবুল।

হুমায়ূন আহমেদের চেহলাম দুই পরিবারের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে করা হয়। হুমায়ূনের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন দুপুরে নুহাশ পল্লীতে এবং সাবেক স্ত্রী গুলতেকিন খান, তার ছেলে-মেয়ে এবং লেখকের মা-ভাইরা সন্ধ্যায় ঢাকার বনানীতে চেহলামের আয়োজন করেন।

নন্দিত এই লেখক ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৬৪ বছর বয়সে গত ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের বেলভ্যু হাসপাতালে মারা যান। পরে তাকে নিজ হাতে গড়া নুহাশ পল্লীর লিচুবাগানে দাফন করা হয়।

চেহলামে যোগ দিতে সোমবার রাতেই শাওন দুই ছেলেকে নিয়ে নুহাশ পল্লীতে আসেন। এ সময় তার সঙ্গে বাবা মোহাম্মদ আলী, মা তহুরা আলীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন।

আশপাশের এতিমখানার শিশুরা সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কোরআন তেলাওয়াত শুরু করে। দুপুরে কোরআন খতম, কবর জিয়ারত ও দোয়া শেষে এতিমদের খাওয়ানো হয়।

বৃষ্টিবিলাস ভবনের সামনে এতিম শিশুদের পাতে নিজহাতে খাবার তুলে দেন শাওন। এ সময় তার সঙ্গে দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিত ছিল।

পরে অশ্রুসিক্ত শাওন সাংবাদিকদের বলেন, “হুমায়ূন আহমেদ নিজ হাতে তুলে মানুষকে খাওয়াতে পছন্দ করতেন। আমার ও দুই সন্তানের কাছে তিনি বেঁচে আছেন। তার দেহটা নেই, কিন্তু তার আত্মা সবসময় আমাদের পাশে আছে।

“লিচুবাগানে গিয়ে নিষাদ-নিনিত বাবার কবরে হাত বুলায়। আর বলে, আমরা বাবাকে আদর করছি মা।”

শাওনের বাবা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী জানান, ভাত, গরুর মাংস ও মাষ কলাইয়ের ডাল দিয়ে এতিম শিশুদের খাওয়ানো হয়েছে। এই খাবার হুমায়ূন আহমেদের খুব প্রিয় ছিল।

বিকালেই শাওন ও তার পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় ফিরে আসেন বলে জানান নুহাশ পল্লীর ব্যবস্থাপক বুলবুল।

Advertisements