‘কোথাকার কোন অনন্ত বিজয় দাশ?’

সবাই ভাবছেন কোথাকার কোন ”অনন্ত বিজয় দাশ”? একে আবার খুন করার কি হলো? অনন্ত বিজয় দাশের মতো শক্তিশালী বিজ্ঞান লেখক কতজন ছিলো? অনন্ত বিজয় দাশের প্রধান দোষ মৌলবাদী গোষ্ঠীর কাছে ছিল এই যে,- সে কখনো তথাকথিত ঈশ্বর আর বিজ্ঞানকে মিলিযে ফেলতো না। অনন্ত জানতো তার জীবনের হুমকি আছে। তবু কখনো স্বার্থপরের মতো নিজের অভিভাবকের দায়িত্ব থেকে সরে যায়নি। অনন্ত বিজয় দাশ কাপুরুষ ছিলো না, বরং দায়িত্ববান সন্তান ছিল। আজ দেখি সবাই অনন্তর বন্ধু, সবাই অনন্ত বিশেষজ্ঞ।
অথচ প্রয়োজনের সময় কাউকে পায়নি অনন্ত। নিজের জীবনের পরোয়া না করে ছেলেটি নিয়মিত অজয় স্যারের খবর নিতো, যা আমরা করতে পারিনি। টাকা পেলে আমরা বেশিরভাগ মানুষ জামাকাপড় জুতো এসব প্রসাধনীর জিনিষ কিনি। অনন্ত কিনতো বই। ওর স্কলারশিপ হয়ে যাবার পর ও ভেবেছিলো শিপে করে দুবারে ৫০ কেজি করে, ১০০ কেজি বই নিজের কাছে নিয়ে যাবে। ওর বাড়িতে ১০ হাজার বই বুক শেলফে পড়ে আছে। স্কলারশিপটা হয়েছিলো অনন্তর সত্যিই। কিন্তু ওর স্বপ্নসহ সব কিছু শেষ করে দিলো মৌলবাদীরা। 

অনন্তর লেখা ও অনুবাদিত বইগুলোর নাম দিলাম নীচে, চাইলে পড়ে দেখতে পারেন। পার্থিব, ডারউইন: একুশ শতকে প্রাসঙ্গিকতা এবং ভাবনা, (সম্পাদিত), ফ্রান্সিসকো আয়ালা’র বিখ্যাত বই “Am I a Monkey?: Six Big Questions about Evolution” “জীববিবর্তনের সাধারণ পাঠ” (চৈতন্য প্রকাশনী, ২০১৪) অনুবাদ করেন অনন্ত বিজয় দাশ।

গত ফেব্রুয়ারী মাসে মৌলবাদী জঙ্গীদের হামলায় নিহত বিজ্ঞান মনস্ক লেখক অভিজিত দার একটি বইয়ের ভূমিকা লিখেছিলেন অনন্ত বিজয় দাশ। ‘যুক্তি’ নামের একটি বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা সম্পাদনা করতেন অনন্ত সিলেট থেকে। এছাড়া বন্যাপুর বিবর্তনের পথের অনেক কাজ অনন্ত নিজে করে দিয়েছিল। অনন্ত একজন গুণী এবং ক্ষুরধার বিজ্ঞান লেখক ছিলেন। অভিজিতদার মতো অনন্তর অবদানও ফেলে দেবার নয়।

আজ অনন্তর দুই বন্ধুকে মৌলবাদীরা হুমকি দিয়ে চলছে, তাদের ফোনে ফোন করে সূরা ইয়াসিন শোনানো হয় বিদেশ থেকে। ওরা ছাড়া বাকি সবাই অনন্তর বন্ধু বলে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে চলছে, আমার জীবন হুমকির মুখে!! কিছুই বলার নেই। আমি হতবাক বিস্ময়ে চেয়ে রই। আমার কাউকে কিছুই বলার নেই।