জামায়াত, জাফর স্যার ও জয়

অভিজিৎ রায় খুন হওয়া নিয়ে সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা কেন প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে পারেননি? তার জবাব প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় দিয়েছেন। সেই জবাব যে খুব একটা গ্রহণযোগ্য নয় তা সোজাসাপ্টা জানিয়েছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল। জয়ের বক্তব্যের অগ্রহণযোগ্যতা জয়ের মতোই কৌশলী ভাষায় প্রকাশ করেছেন আনোয়ার হোসেন।
জয়ের ওই বক্তব্য এবং তার প্রতিক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে এই লেখা নয়। জয়-জাফরকে নিয়ে তো বেশ হইচই চলছেই। আমার উদ্বেগ অন্য জায়গায়। আমি উদ্বিগ্ন জাফর স্যার এবং জয়ের জামায়াতকে গ্রহণযোগ্যতা দেয়ার প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়ায় কিংবা জড়িয়ে থাকায়।
জাফর স্যারের প্রতিক্রিয়ার প্রতিক্রিয়ায় সুশান্ত দাশগুপ্ত একটি ব্লগ লিখেছিলেন। এতে দুটি উদ্বেগজনক তথ্য আছে- ১. জাফর স্যার জামায়াতি পৃষ্ঠপোষকতার একটি প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, ২. জামায়াতি ওই প্রতিষ্ঠানটিই এবার ইয়াং বাংলা পুরস্কার পায় যে পুরস্কারটি মূলত জয়েরই ধারণাপ্রসূত।
সুশান্ত বলছেন: “আমাকে এক ছেলে জানালো দাদা হবিগঞ্জ জেলা জামায়াত নেতার এক ছেলে হবিগঞ্জে শিশুদের একটি আইটি প্রোগ্রাম করছে। জাফর স্যার প্রধান অতিথি হিসেবে আসছেন এই প্রোগ্রামে; আপনি কি স্যারকে একটু বলে দেখবেন স্যার যেনো না আসে।
স্যারকে বলার পর আমি বুঝলাম স্যার খুশি হননাই। উনি বললেন, দেখো যেখানে শিশুদের প্রোগ্রাম, সেখানে আমি রাজনীতি ব্যাপারটা দূরে রাখতে চাই। … দেখো, এখন আমি তো কথা দিয়ে দিয়েছি। অনেক ছোট ছোট ছেলেমেয়ে বসে থাকবে। নেক্সট টাইম এরকম হলে আমাকে একটু আগেই জানাইও। তো ঘটনা হইলো পরে দেখা গেলো স্যার এর পরের বছর ও ঐ প্রোগ্রামে গিয়েছেন বলে শুনেছি।”
ব্যাপারটা তাহলে তাই! ছোটছোট ছেলেমেয়েরা বসে থাকায় জাফর স্যারকে জামায়াতের ওই অনুষ্ঠানে যেতেই হবে!! নাকি তিনি না গিয়ে বরং ছোটছোট ছেলেমেয়েগুলির মধ্যে এই ছোটবেলাতেই স্বাধীনতার পক্ষের অর্থাৎ জামায়াতবিরোধী চেতনার সঞ্চার করবেন? তিনি যদি ওই অনুষ্ঠানে না যেতেন, ছেলেমেয়েগুলি জানত যে তাদের প্রিয় জাফর স্যার একটা কারণে এই অনুষ্ঠানে আসেননি। কী সেই কারণ? কারণটা হলো, এই অনুষ্ঠান জামায়াতের, সেই জামায়াত যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। সেই জামায়াত যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলাদেশিদের হত্যা করেছিল। বই পড়ে এই কথাগুলি বাচ্চা ছেলেমেয়েদের মাথায় ঢোকাতে অনেক সময় লাগবে। অথচ তার চেয়ে অনেক কম সময়ে অনেক সহজে নিজের জীবনের ওই অনুষ্ঠানে জাফর স্যারের যাবেন বলেও না যাওয়ার কারণ দিয়ে তারা সহজে বিষয়টা জেনে নিতে পারত।
সুশান্ত আরো বলছেন: “মজার বিষয় হলো ঐ ছেলে আমাদের ইয়ং বাংলা’র ”জয় বাংলা” পুরষ্কারও পেয়েছে এই কিছুদিন আগে। আমি হবিগঞ্জে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকে জিগাইলাম এই ছেলে কিভাবে জয় বাংলা পুরষ্কার পায়? উনারা উত্তর দিলেন, কেনো তোমার জাফর স্যার তো এই ছেলের প্রতিটি প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি থাকে! তখন তুমি কই থাকো?”
এটুকু পড়ে আমি বিস্মিত হই। সজীব ওয়াজেদ জয় প্রবর্তিত ইয়াং বাংলা পুরস্কার যে পাচ্ছে তার বিষয়ে কোনো খোঁজ-খবর করা হচ্ছে না! জাফর ইকবাল ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ছিলেন- জামায়াত নেতার ওই ছেলেকে পুরস্কার দেয়ার জন্য কি এই তথ্যটি বিশেষভাবে বিবেচনায় নেয়া হয়েছিল? আর ওই ছেলে সম্পর্কে কোনো খবর নেয়া হয়নি! জাফর স্যারকে ইয়াং বাংলার লোকজন জিজ্ঞ্যেস করেছিল যে স্যার আপনি কেন ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন? তারপর তার জবাবের ওপর ভিত্তি করে তাকে পুরস্কার দিয়ে দেয়া হয়! বিষয়টা নিশ্চয়ই ওইরকম সরল না। যেরকম জটিলই হোক, একজন জামায়াতির হাতে জয়ের একটি সার্টিফিকেট উঠলো।
জাফর স্যারের প্রধান আতিথ্য এবং জয়ের সার্টিফিকেট পাওয়া এই জামায়াতিরাই একদিন বড় হবে। তারপর তারা একদিন আওয়ামী লীগে ঢুকবে। তারপর আওয়ামী লীগের নেতারাও একদিন আবার বলবেন, দলে অনুপ্রবেশ ঘটেছে। [by Polash Datta]