‘বাসের ছাদে বসে মেয়েদের দিকে কুৎসিত ইঙ্গিত ও আওয়াজ করছে’

লোকটার নাম জাকারিয়া। লোকাল বাসের স্টাফ। বাসের ছাদে বসে মেয়েদের দিকে কুৎসিত ইঙ্গিত ও আওয়াজ করা এর স্বভাব।

ঘটনাটা বলি। পরিবাগের উল্টোদিকে, শেরাটন মোড়ের কাছাকাছি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বারবার শিষের আওয়াজ। বামপাশে ফিরতেই দেখি এই লোক বাসের ছাদে বসে শিষ দিচ্ছে আর ছাদেই লাফিয়ে ঝাপিয়ে বাজে ইঙ্গিত করছে। মাথার রক্ত চড়ে গেল।

ওটাকে নামতে বললাম ছাদ থেকে। কথা না শুনে আবারও বাজে কথা আর ইংগিত করতে লাগলো। 

এবার বাসটার সামনে গিয়ে সেটার রাস্তা আটকে ড্রাইভার আর হেলপারকে বললাম ওকে নামাতে। তাও নামে না।

শেষে আপুকে বাসটা আটকে রাখতে বলে সামনে গিয়ে ট্রাফিক সার্জেন্টকে বললাম ওকে ধরতে। প্রথমে ট্রাফিক কন্ট্রোলে ব্যস্ত থাকায় আসছিল না।

সিগন্যাল ছেড়ে দিয়েছে-বাসটা চলে যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি আবার বাসের সামনে গিয়ে বাসটা আটকালাম। ট্রাফিক পুলিশকে ডাকছি। বাসটা কাটিয়ে চলে যেতে চাইলো। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশকে বলে আর রাস্তার এক লোকের সাহায্যে সেটাকে আটকালাম। হেলপার বলছে সে নেমে গেছে। কিন্তু আপু দেখালো লোকটা ছাদে লুকিয়ে বসে।

শেষে পুলিশ হেলপারকে ধমক দিয়ে ওকে নামালো ছাদ থেকে। আমি পুলিশকে পরিচয় দিয়ে বললাম একে ধরে থানায় নিতে। ট্রাফিক পুলিশ বললো রাস্তা ছেড়ে যেতে পারবে না। শেষে রমনা থানার টহলগাড়ির পুলিশকে বললাম ওকে নিয়ে যেতে।

লোকটা কি করেছে জেনে আমার ভিজিটিং কার্ডটা নিয়ে থানায় নিতে গেল । এর মাঝে এই অপরাধী ভয় পেয়ে হাতে পায়ে ধরে মাফ চাইতে শুরু করলো। শেষে দশবার কানে ধরে উঠবস করিয়ে পুলিশের ভাষণ শোনানোর জন্য রেখে আসলাম অভিযোগ না দিয়েই। রাস্তা পার হতে গিয়ে দেখি পুলিশের ধমকে ভয় পেয়ে দৌড় দিয়েছে।

আর তাড়া করার প্রয়োজন অনুভব করিনি। কারণ এরমধ্যেই সে ভীত এবং যথেষ্ট শিক্ষা পেয়েছে।