‘ক্লাসে রাজ্জাক স্যার সকল মেয়েকেই মারার চেষ্টা করতো’

রাজ্জাক স্যার সকল মেয়েকেই মারার চেষ্টা করতো ক্লাসে। পড়া না পারলে বা সামান্য দুষ্টামি করলেই মার। স্কেল দিয়ে হাতের তালুতে বাড়ি।
আমাদের স্কুলটা সম্পূর্ণ গার্লস ছিল
মারার আগে তিনি অনেকটা সময় নিয়ে হাতের তালুতে স্কেল দিয়ে ছবি আঁকার মত ধিরে ধিরে দাগ কাটতেন আর শান্ত স্বরে ব্যাঙ্গ করতেন। যে মেয়েটা হাত পে্তে আছে সে শিউরে শিউরে উঠত। স্যারের মুখে এক রকম লালায়িত আনন্দের ছাপ ধিরে ধিরে স্পষ্ট হত। ………… শেষ মুহূর্তে সজোরে বাড়ি।

আমাকে কোনদিন মারেননি। সেই সুযোগ পায়নি। তবে আদর করতেন, বাহবা দিতেন। কাছে দাড়িয়ে আমার সুন্দর ভবিষ্যতের গল্প করতেন এবং পিঠে হাত বোলাতেন। তার হাত বারবার আমার পিঠের ব্রা’র স্ট্রিপের ওপর চাপ দিয়ে যেত।

চল্লিশ মিনিটের পুরো ক্লাসটা মরা বাড়ির মত শান্ত হয়ে থাকতো। কেউ কথা বলত না। স্যার ক্লাস থেকে বের হবার পর কেউ কেউ ঢুকরে কেঁদে উঠত।
যে দুটো বিষয় তিনি ঘটাতেন তার কোনটার জন্যই হায়ার অথোরিটির কাছে নালিশ করার মত বুদ্ধি বা বাড়িতে মায়ের কাছে বলার মত সহজ পরিবেশ, সম্পর্ক আমাদের হয়ে উঠত না। কি বলতাম? কি নালিশ করতাম? – মা, স্যার পড়া না পারলে মারেন বা পড়া পারলে সাবাশি দেয়?

তার বয়স ষাটের কাছাকাছি ছিল, বৃদ্ধ। আমাদের বয়সী মেয়েকে ভালবেসে সাবাশি দেয়া বা স্কেলের একটা বাড়ি দেয়া তার জন্য এবং আমাদের সমাজের জন্য স্বাভাবিক বিষয়।
কিন্তু ঘটনার গভীরতা, তার আপ্রোচ বোঝাবার মত বয়স বা বুদ্ধি আমাদের তখনও হয়নি। তাই প্রতি মুহূর্ত একটা ঘিনঘিনে অবস্থার ভেতর দিয়ে গিয়েছি আমরা চুপচাপ !!!

বাড়িতেও যে এমন হয়নি তা নয়।
দূর সম্পর্কের এক নানা আসতেন বাড়িতে, বৃদ্ধ। আমাদের বাড়ির সকল বাচ্চাদের প্রতি তার ভীষণ ভালবাসা। খুব আদর করতেন সবাইকে। কাতুকুতু দিয়ে হাসাতেন আমাদের। আর কার কেমন লাগতো জানি না, তবে পরিষ্কার মনে আছে তার হাত যখন আমার বগলের তলায় সাপের মত কিলবিল করে বেড়াত তখন বাজে ভাবে আমার শরীরটা ঘিনঘিন করে উঠত। কিন্তু সাত/ আট বছরের এক বালিকার মুখ থেকে নানার নামে এই বিরক্তিকর অভিযোগ শোনার মানসিকতা তখনও আমাদের একান্নবর্তী পরিবারগুলোতে হয়ে ওঠেনি। অগত্যা…………………..

এই বিষয়গুলো ঠিক বোঝাবার মত নয়। সঠিক ভাষা দিয়ে একে প্রকাশ করা দুস্কর।
এর থেকে পরিত্রানের জন্য মায়ের সাথে বা বাবার সাথে বন্ধুর মত সম্পর্ক গড়ে তোলাই একমাত্র পথ।

বিষয়টিকে আপনি যেভাবেই দেখুন না কেন, আপনার ছোটবেলার সেই তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলো আপনারই ছয়/ সাত বা আট বছর বয়সী সন্তানের কাছে মন খুলে বলুন। শুধু তাহলেই সে তার সাথে ঘটে যাওয়া এই কুয়াশায় ঘেরা রাজ্যের গল্প বলবে।
অবলিলায় একটা কথা তাকে বলার সাহস, পরিস্থিতি তৈরি করে দিতেই হবে আপনার -“মা, আমার যেন কেমন লাগে ওনাকে” ।

সন্তানের সাথে সহজ হতে শিখুন। তাকে শিশু মনে করে আঁধারে রাখলে সেই আঁধার কাটাতে পরে আপনাকে না জানি কি মাশুল দিতে হয়!!

আগামী মাসের মাঝামাঝি থেকে শিশুদের নিয়ে বাতিঘর এ শুরু হচ্ছে যৌন নিপীড়ন বিষয়ক সচেতনতা মূলক এক মাসের কর্মশালা।
আসন পঞ্চাশটি।
বয়স- আট থেকে চৌদ্দ। (ছেলে মেয়ে উভয়)
সময় -প্রতি শুক্রবার সকাল দশটা থেকে ।
মোট চারটি ক্লাস একমাসে। তিনটি শিশুর জন্য, একটি অভিভাবকের জন্য।
যাদের আর্থিক সঙ্গতি নেই তাদের কোন রেজিস্ট্রেশন ফি নেই। এক টাকাও না।
তবে যাদের সঙ্গতি আছে তাদের রেজিস্ট্রেশন ফি – ৫০০ টাকা।
আমরা আছি আপনার পাশে। শুধু একটু কষ্ট করে ওকে নিয়ে আসুন আমাদের কাছ পর্যন্ত।
একটা বিপদ আসবার আগেই যদি শিশুটির সে বিষয়ে ধারণা থাকে তবে কিন্তু বিষয়টি ডিল করা ওর জন্য সহজ হয়ে যায়।

বাতিঘরের সাথে যোগাযোগ করুন – ০১৭৬৭৮৪৫৮৭৩, ০১৬২৪৮০৪০৪৮ এই নাম্বারে।
ঠিকানাঃ বাতিঘর, ১/৪, বি ব্লক, লালমাটিয়া, ঢাকা। (উদ্দীপন বিদ্যালয়ের ২য় তলায়)।
রেজিস্ত্রেশন চলবে প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত (আসন পূরণ হবার আগ পর্যন্ত)।

তামান্না সেতু – পরিচালক, বাতিঘর