‘রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে সুন্দরবনের কি ঘটবে তার পূর্বাভাস’

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য বালু ভরাট, ড্রেজিং ইত্যাদি কাজের ফলে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণটুকুও নিয়ণ্ত্রণ করা হয়নি বলে খোদ সরকারি রিপোর্টেই স্বীকার করা হয়েছে! যেমন:

১) কথা ছিল মাটি ভরাটের সময় বাতাসে ধুলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার জন্য পানি ছিটানো হবে এবং জায়াগাটা ঘিরে রাখা হবে। কিন্তু ধুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য এই সামান্যকাজ গুলোও করা হয়নি বলে স্বীকার করা হয়েছে গত নভেম্বর ২০১৪ সালের মনিটরিং রিপোর্টে।

২) ড্রেজিং এর কাজের সময় শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কর্মদক্ষ (ইফিশিয়ান্ট) ড্রেজার ব্যাবহার করার কথা থাকলেও এমন ড্রেজার ব্যবহার করা হচ্ছে যেগুলো থেকে প্রজেক্ট এলাকায় ব্যাপক শব্দ দূষণ হচ্ছে।

৩) কর্মদক্ষ (ইফিশিয়ান্ট) মেশিন ও জেনারেটর ব্যবহার করার মাধ্যমে জেনারেটর, ড্রেজার ও বালু বহন কারী জলযানের সালফার ও নাইট্রোজেনের বিষাক্ত অক্সাইড নিয়ন্ত্রণ করার কথা থাকলেও বালু বহন করী জলযানগুলো থেকে কালো ধোয়া উদগীরিত হওয়ার কথা স্বীকার হয়েছে ঐ রিপোর্টে।

৪) বর্জ্য ব্যাবস্থাপনার মাধ্যমে নদীতে অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলার বন্ধ করার কথা থাকলেও প্রকল্প এলাকায় সেরকম কোন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দেখা যায় নি, শ্রমিকরা খোলা টয়লেট ব্যাবহার করছেন এবং টয়লেট থেকে বর্জ্য উপচে পানিতে মিশছে বলে লিখা হয়েছে সরকারি রিপোর্টে।

৫) নদী থেকে বালু উত্তোলণ ও মাটি ভরাটের সময় মৎস সম্পদের উপর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রজনন মৌসুমে (জুন থেকে আগষ্ট) কাজ বন্ধ রাখা, উপযুক্ত নিষ্কাশন নালা নির্মাণ, দেয়াল নির্মাণ ও দুর্ঘটনা ঘটলে যন্ত্রপাতি থেকে তেল ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর ব্যাবস্থা থাকার কথা ছিল। কিন্তু এগুলো কোনটাই সম্পূর্ণ ভাবে পালন করা হয় নি।

এই পর্যবেক্ষণগুলো সবই সরকারের নিয়োগ করা প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএস এর নভেম্বর ২০১৪ সালের মনিটরিং রিপোর্ট থেকে নেয়া হয়েছে। এই দুষণগুলোর জন্য হয়তো সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে না, কিন্তু এগুলো বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে সুন্দরবনের কি ঘটবে তার পূর্বাভাস।

By Kallol Mustafa