নারীদের স্বমৈথুন বা পুরুষদের হস্তমৈথুন কি উচিৎ বা অনুচিত?

স্বমৈথুন বা পুরুষদের জন্য যাকে হস্তমৈথুন বলে তা সম্পর্কে অনেক পুরুষ জানতে চেয়েছেন। আমাদের দেশে পুরুষদের এই বিষয়ে স্বাস্থ্য সম্মত সঠিক জ্ঞ্যানের যথেষ্ট অভাব রয়েছে, বিভিন্ন ভুল ধারনার বশবর্তী হয়ে অল্প বয়সে অনেকে নিজের স্বাস্থ্য ক্ষয় করে আফসোস করে থাকেন। কিছু সাধারণ বিষয় জানা থাকলে সেগুলো এড়ানো যায়। একজন চিকিৎসক হিসেবে আমার কাছে যে সকল প্রশ্ন পুরুষেরা করে থাকেন তা নিয়ে সংক্ষেপে বলার চেষ্টা করব। আশা করি আপনাদের কাজে লাগবে।

১) হস্তমৈথুন করা কি উচিৎ বা অনুচিত?
২) সপ্তাহে কত বার এটি করলে অভ্যস্ত হয়ে যেতে হয় বা আসক্ত হয়েছে বলা যায়?
৩) হস্তমৈথুনের ঝুঁকি কি কি?
৪) পর্ণ দেখে হস্তমৈথুন করা কতটুকু স্বাস্থ্যকর?
৫) অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে তা থেকে পরিত্রাণের উপায় কি?
৬) স্বপ্নদোষ এড়ানো যায় কীভাবে?

এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেবার আগে কিছু সাধারণ আলোচনা করি। আগেই বলে রাখি এটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত একটি বিষয় এবং এর উত্তর নিজের কাছে নিজে সত্যি করে দিন। সেটা করতে পারলে অনেক কিছু আপনাতেই আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

যারা পর্ণ দেখে হস্তমৈথুনে অভ্যস্ত তারা সঙ্গীর সাথে মিলনের সময় পর্ণ কেই সত্য বলে ধরে নেয়। আমাদের মনে রাখতে হবে পর্ণ সম্পূর্ণ কাল্পনিক একটি ব্যাপার। এর সাথে বাস্তবের কোন মিল নেই। পর্ণে ৩০ মিনিট ধরে একজন রতিক্রিয়া করতে পারে এটা দেখে আপনি মনে মনে হতাশ হয়ে পরলেন, কোন দরকার নেই। স্বাভাবিক রতিক্রিয়ার সময় ৫ থেকে ৭ মিনিট এটি বেড়ে বা কমে কখনও ১০ মিনিট বা ৩ মিনিটও হতে পারে। তবে ৭ দিন আপনি স্বাভাবিক সময়ে কাজ করার পর ৮ম দিনে যদি দেখেন সময়ে একটু উল্টা পাল্টা হচ্ছে ভয় পাবেন না। মানুষের শরীর সব দিন সমান ভাবে চলে না। ক্লান্তি, অবসাদ, দুশ্চিন্তা, শারীরিক অসুস্থতা, ঘুম কম হওয়া, পুষ্টিহীনতা এমন অনেক কারনে সময় একটু বেশ কম হতে পারে, তার মানে আপনার কোন সমস্যা হয়েছে তা নয়। কাজেই নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন। সাহস হারাবেন না।

অরগাজম এমন একটি বিষয় আপনি আপনার শরীরকে যেভাবে এর জন্য প্রস্তুত করবেন সে সেভাবেই কাজ করবে। অর্থাৎ আপনি যদি পর্ণ দেখে অভ্যস্ত হন তবে তাতেই সে অভ্যস্ত হবে, যদি আপনার সঙ্গী দ্বারা হন তবে তাই, যদি একা একা হন তবে তাই। এটি মানব দেহের অন্যতম একটি প্রক্রিয়া যার সংঘটন হবার পর্যায় গুলো মস্তিস্কে খুব শক্তভাবে স্থায়ী আসন গেড়ে নেয় যা থেকে পরিবর্তন করে আনা একটু কষ্টসাধ্য। কাজেই যে বিষয়ের উপর নির্ভর করেই আপনি হস্ত মৈথুনে অভ্যস্ত হন না কেন খেয়াল রাখতে হবে তা যেন আপনার দুর্বলতায় পরিণত না হয়।

সহজ কথায় লেবু এক দুই ফোটা সরবতে দিলে খাওয়া যায় কিন্তু পুরোটা চেপে দিলে তিতা হয়ে যায়। অতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল না।

স্বপ্নদোষ কেবল নামেই দোষ। এটি একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ঘটনা যত বারই হোক না কেন। এটাকে ভয় পাবার কিছু নেই। যদি নিজেকে দুর্বল মনে হ্য় ভাল করে পুষ্টি দায়ক খাবার খান যেমন দুধ, মাংস, ডিম, ফলমূল এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম নিন। অহেতুক দুশ্চিন্তা করে আরও বেশি দুর্বল লাগবে। আর ছেলেদের কম বয়সে একটু বেশি পরিমাণ স্বপ্নদোষ হওয়া স্বাভাবিক যেটা বয়সের সাথে ধীরে ধীরে কমে আসে।

যারা হস্তমৈথুনে আসক্ত হয়ে পরেছেন, বেড়িয়ে আসতে চান তারা একবারে ছেড়ে দিতে না পারলে ধীরে ধীরে কমিয়ে আনুন। পরিবর্তন নিজেই বুঝতে পারবেন। সুস্থ শরীরে কোন সমস্যা না থাকলে সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ বার করা যায়। এর বেশি না।

অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের কিছু ক্ষতিকর দিকঃ
১) শারীরিক মিলন এবং হস্তমৈথুন আপনার দেহের জন্য একই রকম সুবিধা বহন করে না। অবশ্যই শারীরিক মিলন আপনার দেহের জন্য হস্তমৈথুন অপেক্ষা অধিক উপকারি।
২) যৌন রোগ বাহিত হবার ঝুঁকি না থাকলেও অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের ফলে পুরুষাঙ্গের চামড়া অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমনকি উত্থিত শিশ্নের উপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগে এর আঁকার আকৃতি নষ্ট হয়ে রক্ত চলাচল ব্যহত হতে পারে।
৩) মানসিক দুর্বলতা সৃষ্টি করতে পারে যার পিছনের মূল কারন আমাদের অজ্ঞতা।

অনেক কথা বলে ফেললাম। এবার প্রশ্ন গুলো করি।
১) আপনি যখন হস্তমৈথুন করেন তখন কি আপনার এমন কি অনুভুতি হয় এর দ্বারা আপনার ক্ষতি হতে পারে? উত্তিত হওয়া থেকে অরগাজম পর্যন্ত কোথাও কোন অস্বাভাবিকতা মনে হয় কি?
২) প্রতিবার যখন আপনি এটি করেন তখন কি আপনার মনে হয় আপনি এর প্রতি আরও নির্ভর হয়ে পরছেন?
৩) হস্তমৈথুন করার সময় নিজের প্রতি ও নিজের জীবনের প্রতি আপনার ধারনা কি ইতিবাচক থাকে নাকি নেতিবাচক?
৪) এই সময় আপনার কি নিজেকে আরও নিঃসঙ্গ মনে হয়?
৫) আপনি যদি কারো সাথে কোন সমর্পকে ইতিমধ্যে থাকেন তবে হস্তমৈথুন করা অবস্থায় আপনার কি মনে হয় আপনার সঙ্গী থেকে আপনি আরও দূরে চলে যাচ্ছেন নাকি এটি আপনাদের সম্পর্কের জন্য ভাল কিছু বয়ে আনবে?

উত্তর গুলো নিজেকে নিজে দিন। যদি নেতিবাচক হয় তবে সময় হয়েছে সরে আসার। সুস্থ হয়ে উঠুন। সাহস রাখুন। এটি কোন গুরুতর সমস্যা নয়। একটু সময় ও ধৈর্য ধরলেই সবকিছু ঠিক হয়ে যায়।

-ডাঃ নাজিয়া হক অনি
_______________________________________
রেফারেন্সঃ

http://en.wikipedia.org/wiki/Ejaculation

http://candeobehaviorchange.com/…/is-masturbation-a-health…/

http://www.webmd.com/…/male-masturbation-5-things-you-didnt…

বিঃ দ্রঃ আমি নিশ্চিত কোন পুরুষ এখানে অশালীন কোন বক্তব্য করবেন না। নারীদের স্বমৈথুন নিয়ে লেখার পর অনেকের কষ্ট হয়েছে বলেই আপনাদের জন্য লেখা। এরপরেও লজ্জা না থাকলে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারতে চাইলে অসংলগ্ন কথা বলতে পারেন। আমার কোন আপত্তি নেই। ব্লক করতে ২ মিনিট নেব।