‘অামি তাদের নারী শরীর সম্পর্কে ধারণা দিতে চাই’

‘আমার ঘরভর্তি ছেলে, মোট চারজন। তারা এখনো প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠেনি। তাই তাদের ম্যাট্রেসের নিচে এখনো কোন পর্নো ম্যাগাজিন পাওয়া যায় না কিংবা লুকিয়ে কোন পর্নো সাইটও ব্রাউজ করে না তারা। আমি যতই ভাবি, আমার ছেলেরা এসবের প্রতি আসক্ত হবে না, কিন্তু অমি জানি, সেটা হবেই, তারা নারী সম্পর্কে জানতে কৌতুহলী হবে। আমি এটাও জানি, আমাদের সময়ে আমরা যে বয়সে এসব সম্পর্কে ধারণা পেয়েছিলাম, ছেলেরা তার অনেক আগেই সেসব সম্পর্কে ধারণা পেতে চাইবে। পর্নো ম্যাগাজিন পড়ে কিংবা পর্নোমুভি দেখে নারীর শরীর সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার অাগেই অামি তাদের নারী শরীর সম্পর্কে ধারণা দিতে চাই। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি আমার সন্তানদের সামনে নগ্ন হবো।’

কথাগুলো হাফিংটন পোষ্টে নিজের ব্লগে লিখেছিলেন চার ছেলের জননী রিটা টেম্পলেটন। লেখার এক পর্যায়ে তার এমন সিদ্ধান্তের যথার্থতা উল্লেখ করে লিখেছেন, যদি আমি এমনটি না করি, তাহলে তারা কোন ম্যাগাজিন বা মুভিতে ‘নারী দেহের অসম্ভব সুন্দর আকার’ সম্পর্কে জানবে। তখন তাদের মনে কী ধারণা জন্ম নেবে? সব নারীদের শরীরই ওই রকম হওয়া চাই? কিন্তু ছবিতে নয়, বাস্তবে একজন নারী শরীর দেখতে কেমন হয়, সেটাই অামি ছেলেদের জানাতে চাই।

তার এ লেখা নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে ইন্টারনেটে। তার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে হাফিংটন পোষ্ট তাদের লাইভ শোতে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রিটার।

সূত্র

সাক্ষাৎকারে রিটা বলছিলেন, তিনি সবসময়ই বাস্তবাদী মানুষ। ছেলেদেরকেও তিনি বাস্তব শিক্ষা দিতে চান। রিটা মনে করেন, সময়টা নারীশরীর নিয়ে উন্মত্ততার। চারদিকে নানান কায়দায় চলছে নারীশরীরের প্রদর্শনী। কখনও নামেমাত্র কিছু পোশাক, কখনওবা আবার পোশাকহীন। রিটার মতে, আসলে বিশেষ এক ধরনের নারী শরীরই সবজায়গায় উপস্থাপন করা হচ্ছে। রোগা, লম্বা, স্ফীত স্তনের এক রকমের নারীশরীর ক্রমশ প্রদর্শিত ও বিক্রিত হয়ে চলেছে, এবং এই নারীশরীর যে ফ্যান্টাসির জন্ম দিচ্ছে তাই বিকৃতি ডেকে আনছে সমাজে।

নগ্ন হয়ে সন্তানদের রিটা জানিয়ে দিতে চান, আসল নারীশরীর কেমন। ডিজিট্যাল প্রক্রিয়াকে সম্বল করে ফ্যান্টাসি উসকানো যে ছবি দেখানো হয়, যে ছবিতে নারীকে বিকৃত করে বিক্রি করা হয়, তা যে সত্যিকারের নারীদেহ নয় এবং তা নিয়ে অকারণ ফ্যান্টাসির প্রয়োজন নেই, সেই মিথটিই ভেঙে দিতে চান তিনি। আর তাই, নারীশরীর নিয়ে কোনও বিকৃতি যেন তাঁর সন্তানদের মধ্যে কখনও বাসা না বাঁধে এমনটাই চান তিনি৷

রিটার এই পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজার হাজার বার শেয়ার হয়েছে। নারী শরীরকে পণ্য করে তোলার প্রতিবাদে রিটার এই অভিনব ভাবনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বহু মানুষ। রিটার এমন উদ্যোগ নিতে বাধ্য হওয়া এটাই প্রমাণ করে, নারী শরীরকে কেন্দ্র করে অহেতুক যৌনতার ব্যবসা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে!