Tagged: blogging Toggle Comment Threads | Keyboard Shortcuts

  • probirbidhan 18:41 on July 4, 2015 Permalink |
    Tags: , blogging, militants, radical Islamists, religious fanatics,   

    ব্লগারদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে: অধ্যাপক অজয় রায় 

    আন্তর্জাতিক এই সংগঠনটি বিশ্বব্যাপী বাকস্বাধীনতা ও তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে।

    শুক্রবার ব্র্যাক সেন্টার ইন মিলনায়তনে ‘স্পন্দমান ও শঙ্কামুক্ত অনলাইন ক্ষেত্র চাই’ শিরোনামে ওই ‘সনদ’ উন্মোচন করেন নিহত ব্লগার অভিজিৎ রায়ের বাবা পদার্থবিজ্ঞানী অজয় রায়।

    আর্টিকেল ১৯ এর বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক তাহমিনা রহমান বলেন, “মত প্রকাশের অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে ব্লগাররা সাধারণত যে সব জটিলতার মুখোমুখি হয় সেসব বিষয় বিবেচনা নিয়ে ব্লগারদের জন্য এই সনদ।

    “এই সনদে ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের অধিকার, তাদেরকে সহিংসতা, নির্যাতন ও হয়রানি থেকে সুরক্ষার কথা জোরালোভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।”

    পাশাপাশি তথ্যসূত্র প্রকাশ করতে বাধ্য না করা এবং সরকারি সংস্থার সাথে নিবন্ধন করার ব্যাপারে বাধ্য না করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অধ্যাপক অজয় রায় ‘ব্লগারদের প্রতি সরকারের নিষ্ক্রিয় মনোভাব রয়েছে’ অভিযোগ করে বলেন, “তারা (ব্লগাররা) যে এক ধরনের মৌলবাদীদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে সেটি সরকার অনুধাবন করতে পারেনি। যদি পারত, তাহলে কয়েক মাসের মধ্যে তিনটি হত্যাকাণ্ড হত না।”

    অভিজিতের হত্যা মামলার অগ্রগতি জানতে কিছু দিন আগে গোয়েন্দা কার্যালয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তারা বলছে, তারা দুজনকে চিহ্নিত করতে পেরেছে। তবে এখনও ধরতে পারেনি।”

    ব্লগারদের প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তুলে অজয় রায় বলেন, “ধরে নিলাম ব্লগাররা নাস্তিক, সেটি যদি অপরাধ হয় তাহলে তাদের বিচারের সম্মুখীন করুক। যদি আদালত তাদের ফাঁসির রায় দেয় তাহলে ফাঁসিতে লটকাবে, কেন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সরকার প্রশ্রয় দেবে?”

    ব্লগারদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে বলেও জোর দিয়ে বলেন তিনি।

    “অভিজিতের হত্যাকাণ্ডের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিফোন করে বলেছিলেন, আপনার জন্য কী করতে পারি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ, তিনি সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এ খবরটি তিনি মিডিয়াতে দেননি অর্থাৎ ব্লগারদের প্রতি তার কিছু না কিছু সহানুভূতি প্রকাশ পাক সেটিও বোধহয় তিনি জনগণকে জানাতে চাননি।”

    “ব্লগারদের প্রতি সরকারের নিষ্ক্রিয় মনোভাব রয়েছে, তারা বিচার চান না সেটা আমি বলবো না। কিন্তু এটি নিয়ে তাদের একটা খুব আহামরি অভিযোগ নেই।”

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন এই অধ্যাপক।

    তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় যে কথা বলেছেন তার কোন প্রয়োজন ছিল না। তোমার এ ব্যাপারে মাথা ঘামানোর কোন দরকার ছিল না। সে উটকো মন্তব্য করে বলেছে, অভিজিৎ একজন স্বঘোষিত নাস্তিক, আওয়ামী লীগ এ ধরনের রাজনীতি করে না। তোমার এই অর্বাচিন উক্তিটার দরকার কী ছিল?”

    “এদিক থেকে দেখে মনে হয় ব্লগারদের প্রতি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের হত্যাকারীদের ধরার ব্যাপারে উৎসাহ নেই, এমনকি ব্লগার হত্যার বিষয়ে সরকারের ঘৃণা বা প্রতিবাদও নেই।”

    ঢাকায় স্বামীর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা করে রাফিদা আহমেদ বন্যার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জয় বলেছিলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি তার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য এতটাই নাজুক যে প্রকাশ্যে তার কিছু বলা স্পর্শকাতর ছিল, তাই তিনি ব্যক্তিগতভাবে অভিজিতের বাবাকে সহমর্মিতা জানিয়েছিলেন।

    অভিজিৎকে ‘ঘোষিত নাস্তিক’ উল্লেখ করার পর রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে জয়কে উদ্ধৃত করে বলা হয়, “আমরা (আওয়ামী লীগ) নাস্তিক হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। তবে এতে আমাদের মূল আদর্শের কোনো বিচ্যুতি হবে না। আমরা ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী।”

    যে সনদ তৈরি করা হয়েছে তা ব্লগারদের সুরক্ষা কবজ হিসেবে কাজ করবে এবং এই সনদ সরকার আমলে নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন অভিজিতের বাবা অজয় রায়।

    ব্লগারদের উদ্দেশে অজয় রায় বলেন, “এমন কিছু ‍লিখবেন না যা জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। আপনারা এই সনদ ছাড়াও নিজেদের আত্মনিয়ন্ত্রণ করুন, আপনারা মত প্রকাশ করতে যেয়ে এমন কাজ করবে না যা অন্যর চেতনা বা ধর্মীয় বা অন্য যে চেনতাই হোক তাতে নিরর্থক আঘাত হানে।”

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের রাজনৈতিক শাখার প্রধান আদ্রিয়ান জোনস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহবুবুর রহমান, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ব্লগের মডারেটর আইরিন সুলতানা, ব্লগার ফাতিমা আবেদিন নাজলা, কবি নীল সাধু ও নাসরিন সুমি।

    এছাড়া অনুষ্ঠানে শতাধিক ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, ব্লগ সঞ্চালকরা উপস্থিত ছিলেন।

    ১২ সুপারিশ

    আর্টিকেল ১৯ এর ১২টি ধারার মধ্যে অন্যতম অনলাইনে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে আন্তজার্তিক আইনের যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করা। অনলাইন মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর যে কোন বিধি-নিষেধ আরোপের ক্ষেত্র্রে আন্তজার্তিক মানদণ্ড অনুসরণের সুপারিশ এসেছে সনদে।

    এছাড়া ব্লগে লেখালেখির কারণে ব্লগারদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের হয়রানিমূলক অপপ্রয়োগ বন্ধ করা, তাদের উপর আক্রমণ ও সহিংসতাকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর প্রত্যক্ষ আঘাত হিসেবে বিবেচনা করার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

    অন্যদিকে বিদ্যমান আইনে পেশাদার সাংবাদিকরা যে ধরনের সুরক্ষা বা সুবিধা পেয়ে থাকেন, জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশ ও প্রচারের কাজে নিয়োজিত ব্লগারদের জন্যও একই ধরনের সুরক্ষা ও সুবিধাদি নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করে আর্টিকেল ১৯।

    পেশাদার সাংবাদিকদের পাশাপাশি ব্লগারদের জন্যও প্রবেশাধিকার সম্পর্কিত সরকারি স্বীকৃতিব্যবস্থা উম্মুক্ত করা, সাংবাদিকতাধর্মী কাজে নিয়োজিত ব্লগারদের পেশাদার সাংবাদিকদের মতই তথ্যসূত্রের সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা, তথ্যসূত্র প্রকাশের যে কোন অনুরোধ বা নির্দেশ শুধু গুরুতর ঘটনার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে সনদে।

    তবে এক্ষেত্রে প্রথমে আদালতের অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

    আর্টিকেল ১৯ বলছে, ব্লগারদের কখনোই সরকার বা সরকারি সংস্থার কাছে নিবন্ধিত হতে বাধ্য করা যবে না।

    ব্লগে লেখালেখির জন্য ব্লগারদেরকে তাদের প্রকৃত নামে নিবন্ধিত হতে বাধ্য করা যাবে না।

    এছাড়া প্রচলিত ধারার গণমাধ্যম কর্তৃক প্রণীত আচরণ বিধি মেনে চলতে ব্লগারদের বাধ্য না করার সুপারিশও এসেছে সনদে।

    ১৯৮৭ সাল থেকে তথ্য অধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে কাজ করছে লন্ডন ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন আর্টিকেল ১৯। ‘মানবাধিকার সনদের’ ১৯ ধারা থেকে সংগঠনটি তাদের নাম নিয়েছে।

    Advertisements
     
  • probirbidhan 21:22 on May 18, 2015 Permalink |
    Tags: , অভিজিৎ, একুশে ফেব্রুয়ারী, ওয়াশিকুর বাবু, নববর্ষ, নাস্তিকতা, ব্লগার বিজয়, , blogging   

    ‘আজ চুপ থেকে ভাবছেন আপনি বেঁচে গেলেন? ভুল!’ 

    By সিডাটিভ হিপনোটিক্স

    অভিজিৎ রায়কে হত্যা করা হয়েছিলো, কারন নাস্তিকতা নিয়ে লেখালেখি। যুক্তি তর্ক দর্শন। অধিকাংশই চুপ ছিলো। ওয়াশিকুর বাবুকে মারা হয়েছে। তার কথা ভুলেই গেছি। আজ ব্লগার বিজয় দাসকে কুপিয়ে মারা হলো। আবার চুপচাপ দেখছে সবাই। কারন ছিলো মুক্তমনায় লেখালেখি, এডমিন হওয়া। মোটামুটি লিস্ট নিয়ে এগোচ্ছে হত্যাকারীরা।

    আগামীকাল আমাকে মারা হবে। তাদের হত্যার প্রতিবাদের জন্য। পরশু খুন হবেন কোন কবি, কোন কবিতার জন্য। তারপর কোন ঔপন্যাসিক, কোন দূর্বার উপন্যাসের জন্য। তারপর চাকুরীজীবি মহিলাটিকে পাথর মারা হবে, ভীড়ের ভেতর পুরুষদের সাথে বাসে ওঠার জন্য। পাথর মারা হবে স্কুলের মেয়েটিকে, স্কুলে যাওয়ার জন্য।

    নববর্ষ থাকবে না, একুশে ফেব্রুয়ারী থাকবে না, রবী ঠাকুরের জন্মদিন থাকবে না। শহীদ মিনার গুড়ানো হবে। স্মৃতিসৌধ ভাঙা হবে। গভীর রাতে কেউ জীবনানন্দের কবিতা পড়বে না, নিষিদ্ধ হবে কাফকা, বোদলেয়ার। ফিল্ম মেকিং এর ভূত যুবকের কাধে থেকে নেমে যাবে, আজকের তারকারা প্রবাসী হবে, ডিরেক্টররা নিভৃতে যাবে। আপনার শাস্তি হবে ঐ সাধের সেলফির জন্য।

    এগুলো হবে, শুধু মাত্র চুপ করে অন্যায় সহ্য করার জন্য। এগুলো হবে আর সেদিনও সবাই চুপ করেই থাকবে। আজ কথা গুলো তেতো লাগবে, অবাস্তব লাগবে।

    যদি মনে করে থাকেন, অভিজিৎ কিংবা বিজয় দাসের মৃত্যুর কোন প্রভাব আপনাদের সাধারন জীবনে পড়বে না, কারন আপনারা এগুলোতে জড়িত না, তবে অনেক বড় ভুল করলেন আজ। তারা একটা রক্ত মাংসের শরীরকে মারছে না, তারা একটা চিন্তা ধারাকে খুন করছে। আমার ভাববার অধিকারকে খুন করছে।

    আজ চুপ থেকে ভাবছেন আপনি বেঁচে গেলেন, ভুল। কেউ বাঁচবো না। বাঁচলেও ওটাকে বাঁচা বলবে না।

     
  • probirbidhan 21:37 on May 15, 2015 Permalink |
    Tags: blogging, , ,   

    ব্লগার খুন: এরপর কে? 

    সরকারের কাছে দেওয়া কথিত ‘নাস্তিক তালিকা’ অনুযায়ী একের পর এক ব্লগারকে হত্যা করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তালিকাটি থাকলেও ব্লগারদের নিরাপত্তায় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সরকার।
    তালিকায় থাকা অনেকেই দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। যাঁরা যাননি, তাঁরা আছেন আতঙ্কে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এখন একটাই প্রশ্ন—এরপর কে?

    ব্লগারদের জন্য ‘মোটেই নিরাপদ নয়’ বাংলাদেশ

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির আগে ব্লগারদের ওই তালিকা করা হয়েছিল। হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে দর-কষাকষির অংশ হিসেবে ১৩ মার্চ সরকার নয় সদস্যের একটি কমিটি করে দেয়। কমিটিতে আইন, তথ্য এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও ছিলেন। সেই কমিটির নাম ছিল ‘পবিত্র ইসলাম ধর্ম এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যকারী ব্লগার ও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কমিটি’। কমিটির প্রধান ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রয়াত অতিরিক্ত সচিব মাইনউদ্দিন খন্দকার। কমিটি ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যকারীদের বিষয়ে তথ্য দিতে একটি ই-মেইলও খুলেছিল।
    কমিটি এপ্রিল মাস পর্যন্ত চারটি বৈঠক করে। কমিটি ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যকারীর নাম আহ্বান করলে বিভিন্ন মহল থেকে সব মিলিয়ে ৮৪ জন ব্লগারের একটি তালিকা দেওয়া হয়। সেই তালিকা থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ জন ব্লগারের একটি তালিকা করে কমিটি তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে দেয়। সেই তালিকা থেকে হেফাজতের সমাবেশের ঠিক আগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত কমিটির তৃতীয় বৈঠকে আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত নামের একটি সংগঠন ‘নাস্তিকদের তালিকা’ শিরোনামে ৫৬ জনের একটি তালিকা দেয়। এই ৫৬ জনের মধ্যে আবার ২৭ জনকে আলাদা করা হয়। এই ২৭ জনের প্রত্যেকের আলাদা প্রোফাইল তৈরি করে তা কমিটির কাছে দেওয়া হয়। সেখানে ২৭ জনের ছবি ছাড়াও প্রত্যেকের পরিচিতি, ঠিকানা এবং লেখার বিভিন্ন অংশ তুলে ধরা হয়।
    জামায়াত-শিবির পরিচালিত একটি ফেসবুক গ্রুপের নাম ‘বাঁশের কেল্লা’। একই সময়ে সেখানে ৮৪ ব্লগারের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় আগের ৫৬ জনের নামও ছিল।
    এসব তালিকা থেকেই মূলত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটি ১০ জনের প্রথম তালিকাটি করেছিল। তালিকা তৈরি করে চার ব্লগারকে গ্রেপ্তারের পরও হেফাজতে ইসলাম পূর্বনির্ধারিত ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি ডেকে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। পরে সরকারও তা শক্ত হাতে দমন করে। এতে হেফাজতের সঙ্গে সরকারের আর দর-কষাকষির প্রয়োজন হয়নি। ফলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটি ৫ মের পর আর কোনো বৈঠকও করেনি, তালিকাও হয়নি। গ্রেপ্তারকৃত ব্লগাররা পরে জামিন পেলেও এখনো মামলা চলছে।
    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া আনজুমানে আল বাইয়্যিনাতের তালিকায় রাজিব হায়দার ওরফে শোভনের নাম ছিল। ওই তালিকা দেওয়ার আগেই, ১৫ ফেব্রুয়ারি তাঁকে হত্যা করা হয়। এরও আগে একই বছরের ১৪ জানুয়ারি তালিকায় নাম থাকা আরেক ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এর পরে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি তালিকায় থাকা মার্কিনপ্রবাসী অভিজিৎ রায়কে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
    এরপর ঠিক একই কায়দায় হত্যা করা হয় মূলত ফেসবুকে লেখালেখি করা ওয়াশিকুর রহমানকে। তবে কোনো তালিকাতেই ওয়াশিকুরের নাম ছিল না। সবশেষে ১২ মে সিলেটে হত্যা করা হয় ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশকে। আনজুমানে আল বাইয়্যিনাতের তালিকায় তাঁর নামটি ছিল।
    সামগ্রিক বিষয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছেন, তালিকার বিষয়টি তিনি জানতেন না। জেনে ব্যবস্থা নেবেন।
    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তালিকায় থাকা অধিকাংশ ব্লগারই ইতিমধ্যে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। পর পর তিনজন খুন হওয়ার পরও সরকারের পক্ষ থেকে অন্যদের ক্ষেত্রে কোনো বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আবার তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এখানে এমন অনেকের নাম আছে, যাঁরা নিয়মিত ব্লগে লেখালেখি করলেও ধর্ম নিয়ে কখনো কিছু লেখেননি। কিন্তু ২০১৩ সালে সরকার কমিটি করার পর অতি উৎসাহীরা তালিকা বড় করার জন্য তাঁদের নামও দিয়েছিল। আবার ব্যক্তিগত রেষারেষির কারণেও কিছু নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।

    জঙ্গীপ্রেমী যুগান্তর পত্রিকা তো ব্লগারদের লিস্ট ছাপিয়ে দিয়ে তাদের খুন হবার রাস্তা সহজ করেছে। জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ ব্লগারদের তালিকা দেয় হেফাজতে ইসলাম। 

     
c
Compose new post
j
Next post/Next comment
k
Previous post/Previous comment
r
Reply
e
Edit
o
Show/Hide comments
t
Go to top
l
Go to login
h
Show/Hide help
shift + esc
Cancel