Tagged: Ghulam Azam Toggle Comment Threads | Keyboard Shortcuts

  • probirbidhan 17:44 on July 31, 2015 Permalink |
    Tags: Abdur Rahman Biswas, , Ghulam Azam, Hamidul Haq Chowdhury, Justice Nurul Islam, Khan A Sabur, Mahmud Ali, Manzur Ahmed Chowdhury, Maulvi Farid Ahmed, Moulana Abdul Mannan, Nurul Amin, Raja Tridiv Roy, Reaz Rahman, , Shah Azizur Rahman   

    Salauddin Quader and other privileged collaborators of 1971 

    The sentence of death passed on Salauddin Quader Chowdhury is as good a time as any to delve into the stories of the whereabouts of the collaborators of the Pakistan occupation army after the liberation of Bangladesh in December 1971. Read on Dhaka Tribune by Syed BAdrul Ahsan.

    In the early phase of Bangladesh’s freedom, Fazlul Quader Chowdhury, father of Salauddin, former speaker of the Pakistan National Assembly in the era of Field Marshal Ayub Khan and a leading collaborator of the Yahya Khan junta in 1971, was taken into custody when he reportedly tried to flee to Burma. He was lodged in Dhaka Central Jail, where he eventually died of natural causes. Salauddin Quader’s fortunes turned out to be better, thanks to the rise of anti-historical forces in the aftermath of Bangabandhu’s assassination in 1975.

    The repeal of the Collaborators Act in December 1975 enabled Salauddin, and also old collaborators like Khan A Sabur, once Ayub’s communications minister, to resurface in politics, ironically in a country they had violently opposed between March and December 1971.

    Sabur was elected to the Jatiyo Sangsad at the elections of February 1979. He reorganised the Muslim League as the Bangladesh Muslim League and served as its president till his death, when he was replaced by Justice BA Siddiky, once chief justice of the East Pakistan High Court. Salauddin was to serve as a minister in the Ershad regime and then in the BNP government led by Begum Khaleda Zia. At one point, he was her adviser on parliamentary affairs.

    Within hours of the liberation of Bangladesh, Maulvi Farid Ahmed, chief of the Nizam-e-Islam party, was lynched by citizens. His remains were never found. Another collaborator, Syed Sajjad Husein, who served as vice chancellor of Dhaka University under Tikka Khan and AAK Niazi, was the recipient of a mass beating and left for dead. He survived and made his way to Saudi Arabia, where he taught for a number of years before returning to Bangladesh in the times of General Ershad. He died not long after.

    Hamidul Haq Chowdhury, owner of the Pakistan Observer newspaper and former foreign minister of Pakistan, was stranded in Rawalpindi at the time of Bangladesh’s liberation. He returned to Bangladesh in the 1980s, reclaimed his newspaper, by then known as the Bangladesh Observer, in a legal battle and died some years later.

    His sons-in-law, Reaz Rahman and Manzur Ahmed Chowdhury, both in Pakistan’s diplomatic service, opposed Bangladesh’s liberation but went on to serve as Bangladesh’s diplomats in the post-1975 period of the country’s history. Reaz Rahman is, today, foreign affairs adviser to BNP Chairperson Khaleda Zia.

    Ghulam Azam, stranded in Pakistan, where he had gone in November 1971 for consultations with General Yahya Khan, was sent to a number of Middle Eastern capitals by President ZA Bhutto in the post-December 1971 period, to spread propaganda against a newly-independent Bangladesh.

    Azam disseminated the lie before his hosts that Islam was under threat in Bangladesh and Hindus were in control of the country. He returned to Bangladesh in 1978 on a Pakistani passport and stayed on despite the expiry of his visa. The regime of General Ziaur Rahman looked the other way as Azam slowly made inroads into Bangladesh politics. He died in disgrace not long ago, having been convicted of war crimes in 1971.

    Nurul Amin, chief minister of East Pakistan between the late 40s and early 50s, was one of two individuals bucking the Awami League wave at the 1970 general elections. After March 25, 1971, he became a willing collaborator of the genocidal Yahya-Tikka junta. On December 3, 1971, he was appointed Pakistan’s prime minister by President Yahya, with Bhutto as deputy prime minister and foreign minister.

    The surrender of Pakistan’s army in Dhaka, a fortnight later, changed conditions in Rawalpindi. Zulfikar Ali Bhutto took over as president from the disgraced Yahya Khan and appointed Nurul Amin as the country’s vice president, in which capacity Amin spread the falsehood that the Indian army and the Mukti Bahini were engaged in genocide in “East Pakistan.” He died in 1974 and was buried beside Pakistan’s founder Mohammad Ali Jinnah in Karachi.

    Mahmud Ali, a leading right-wing politician from Sylhet, and Raja Tridiv Roy, chief of the Chakma tribe, cheerfully lent their support to the Pakistan army in 1971. Following the emergence of Bangladesh, both men, then stranded in Pakistan, were appointed as ministers in the government of ZA Bhutto. Roy later served as Pakistan’s ambassador to Argentina before taking on the role of Pakistan’s special envoy. Both men were to die in Pakistan.

    Shah Azizur Rahman, who led Pakistan’s delegation to the United Nations General Assembly session in September 1971, became a prisoner in Bangladesh after liberation in December of the year. His support was solicited by General Ziaur Rahman, Bangladesh’s first military dictator, when the latter sought to make a formal entry into politics in the late 1970s. Zia subsequently appointed Shah Aziz as Bangladesh’s prime minister. Other collaborators, among whom were Abdur Rahman Biswas, Moulana Abdul Mannan, and Justice Nurul Islam, were rehabilitated by the military regimes of General Zia and General Ershad.

    Biswas would become Bangladesh’s president; Moulana Mannan, accused of playing a leading role in the abduction and murder of Bengali intellectuals on the eve of liberation, would become minister for religious affairs in the Ershad regime as well as owner of two newspapers, Inqilab and The Telegraph, and would die before he could be prosecuted for war crimes; Justice Nurul Islam, who was chairman of the East Pakistan Red Cross Society in 1971, would serve as Bangladesh’s vice president under General Ershad.

    Here ends this brief account of the lives and careers of some of the leading Bengali collaborators of the Yahya Khan junta in a free Bangladesh. There are other stories of other men and women, of a similar nature, that need to be told in the larger interest of history.

  • probirbidhan 06:21 on June 25, 2012 Permalink |
    Tags: , , Ghulam Azam   

    আমি গোলাম আযমের ছেলে বলছি 

    ফেসবুকে লিখেছেন কাজী কবিরঃ

    আমি অধ্যাপক গোলাম আযমের ছয় ছেলের মধ্যে কনিষ্ঠতম। সবার ছোট হিসেবে যে আদর পাওয়ার কথা, তা পুরোটাই পেয়েছি, বিশেষ করে আমার দাদা, আব্বা ও বড় ভাইয়ার কাছ থেকে।

    দাদাকে হারিয়েছি খুব ছোটবেলায়, আর বড় ভাইয়া বিদেশে চলে যাওয়ায় তার আদরও বেশি দিন পাইনি। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ১৯৭৬ সালে ইংল্যান্ড যাওয়া পর্যন্ত সাড়ে চার বছর আব্বাকেও কাছে পাইনি। ১৯৭৬ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এবং ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত পুরো সময়টা আব্বার সাথে কাটানোর সৌভাগ্য হয়েছে, এক টেবিলে খাওয়ার সুযোগ হয়েছে। মাঝে কয়েকটি বছর আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য ভারতে থাকলেও প্রতি বছর প্রায় তিন মাস দেশে কাটানোয় আব্বা-আম্মা থেকে দূরে থেকেছি বলে মনেই হয়নি।

    আব্বার সান্নিধ্য আমার কোনো ভাই এত বেশি পাননি।
    আদর্শবান বাবা হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালনে একটুও শিথিলতা প্রদর্শন করেননি। পাঁচ বছর বয়স থেকে দাদা আমাকে নামাজে অভ্যস্ত করেন। এর পর থেকে কোনো দিন নামাজ ছাড়া তো দূরের কথা, জামাতে নামাজ না পড়লে আব্বার কঠোর বকুনি শুনতে হতো। প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর আব্বা মসজিদের চার দিকে তাকিয়ে দেখতেন, তার ছেলেরা জামাতে হাজির হয়েছে কি না। ঘুম হতে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন কাজের জন্য যে দোয়া রাসূল সা: শিখিয়ে গেছেন, তা আব্বা আমাকে শুধু শিখিয়েই ক্ষান্ত হননি, নিশ্চিত করতেন সেগুলো সময়মতো পড়ছি কি না। ১৯৭৭ সালে মাত্র ১১ বছর বয়সে আব্বা-আম্মার সাথে পবিত্র হজ করার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। আরাফাতের ময়দানে আব্বার সাথে হাত মিলিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে যে দোয়া করেছিলাম ও চোখের পানি ফেলেছিলাম, তা মানসপটে এখনো ভেসে ওঠে। দোয়ার পাশাপাশি নিয়মিত কুরআন পড়া ও মুখস্থ করার ব্যাপারে তিনি সব সময় খোঁজখবর নিতেন।

    মানুষ হিসেবে যেসব মৌলিক গুণ থাকা উচিত, তার সব কিছুই আব্বার কাছ থেকে শিখেছি। সর্বক্ষেত্রে মিথ্যা কথা থেকে বিরত থাকা, ওয়াদা রক্ষা করা, সময় অনুযায়ী চলা, সময়ের অপচয় না করা, মানুষের সাথে সব সময় ভালো আচরণ করা ইত্যাদি অনেক বিষয়ে প্রায়ই তিনি আমাদের কুরআন ও হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বোঝাতেন। এগুলোর কোনো কিছুতে ভুল হলে খুবই রাগ করতেন। আব্বা গায়ে হাত দিয়ে খুব কমই শাসন করেছেন। চিৎকার করেও বকা দিতেন না। তখন ক্লাস এইটে পড়ি। আব্বা আমাকে তার চেম্বারে ডাকলেন একজন লোকের সাথে পরিচয় করানোর জন্য। সালাম বিনিময়ের পর তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কেমন আছ?’ বললাম, ‘ভালো।’ আর কিছু না বলে যখন দাঁড়িয়ে আছি, তখন আব্বা আমাকে কঠোর ভাষায় বললেন, একজন ‘কেমন আছ’ জানতে চাইলে তাকেও অনুরূপ প্রশ্ন করাটা খুবই জরুরি। এটি তোমার করা উচিত ছিল। কথাটি মনে রাখবে।’ আজ পর্যন্ত এ ভদ্রতা প্রদর্শন করতে ভুলিনি।

    ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা পছন্দ করতাম। এ ব্যাপারে তিনি কখনো নিরুৎসাহিত করেননি। নিজেও ছাত্র অবস’ায় ভলিবল ও ব্যাডমিন্টন খুব ভালো খেলতেন। স্কুলজীবন থেকে স্কাউটিং করতেন। তবে খেলা দেখে সময় নষ্ট করাকে অপছন্দ করতেন। বলতেন, ‘জীবনকে শুধু খেলা হিসেবে নেবে না। আল্লাহর কাছে কী জবাব দেবে?’

    আমার পড়াশোনা নিয়ে আম্মার চিন্তার শেষ ছিল না। আব্বা সব সময় বলতেন, ‘নিজের ভালোটা নিজেকেই বুঝতে হবে। পড়াশোনা কতটুকু করছ, তার দায়িত্ব তোমার। আমি শুধু রেজাল্ট দেখব’। আব্বা-আম্মার বড় শখ ছিল, তাদের একটি ছেলে অন্তত ডাক্তার হোক। বিভিন্ন কারণে আমার বড় পাঁচ ভাইয়ের কেউ যখন ডাক্তার হলেন না, আমার ওপরই তারা ভরসা করতে শুরু করলেন। নিজেকে সে হিসেবে তৈরি করতে সচেষ্ট হলাম। কিন’ ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময়ই বুঝতে পারলাম যে, আমার দ্বারা ডাক্তারি পড়া হবে না।

    আব্বা এক দিন বললেন, ‘মেডিক্যালে না পড়লে কী পড়তে চাও?’
    ‘সেটা তো খুব ভালো সাবজেক্ট। এ কথা আগে বলোনি কেন?’
    কোনো বকা নয়, কোনো রাগ নয়, কী সুন্দরভাবে তিনি আমার বুকের ওপর থেকে বিরাট বোঝা তুলে নিলেন! তিনি আমার ইচ্ছার কথা চিন্তা করে তার দীর্ঘ দিনের স্বপ্নকে হাসিমুখে ভুলে গেলেন। সন্তানের জন্য নিজের আকাঙ্ক্ষাকে মুহূর্তের মধ্যে কোরবানি দিয়ে দিলেন। যখন পিএইচডি শেষ করলাম, তখন আব্বা-আম্মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ‘ডাক্তার’ না হয়ে ‘ডক্টর’ হওয়ায় তাদের কেমন লাগছে? তাদের গর্বিত হাসি ছিল আমার প্রশ্নের উত্তর।

    এমন একজন বাবা থাকলে কার না গর্বে বুক ফুলে যায়? অথচ তার নামের কারণেই আমার শিক্ষা ও পেশাজীবন দু’টিই বারবার ব্যাহত হয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে তার সন্তান হওয়ার ‘অপরাধে’ কোনো স্কুল আমাকে ভর্তি করতে রাজি হলো না। একটি বছর হারিয়ে গেল জীবন থেকে। ইন্টারমিডিয়েটের পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হলাম। এক বছর যেতে না যেতেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী এক ছাত্র সংগঠনের মারামারির জের ধরে ভিকটিম হতে হলো আমাকে। আমার ‘অপরাধ’ তো অনেক বড়, আমার বাবার নামের কারণে। ফলে আমাকে ভার্সিটিতে যেতে দেয়া হলো না। আরো দু’টি বছর নষ্ট হয়ে গেল।

    সবশেষে ভারতের আলীগড়ে গিয়ে পড়াশোনা করতে হলো। নিজের দেশে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হলেও ভারতে নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করতে পেরেছি। ভারতীয় আধিপত্যের আশঙ্কা করে আব্বা স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেন না, সে দেশে শিক্ষাজীবনের সেরা সময়টি কাটিয়েছি। তাদের পররাষ্ট্রনীতি যা-ই হোক না কেন, কেউ যদি তাদের দেশে পড়াশোনা করতে আসে এবং তাদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে, তারা তাকে সে সুযোগটি দেয়। অথচ আমাদের দেশে এ মৌলিক মানবাধিকারটুকুও নেই। এ জন্যই ভারতের গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে আর আমাদের গণতন্ত্র বারবার পড়েছে মুখ থুবড়ে।

    ২০০৫ সালের মার্চে ইংল্যান্ড থেকে একটি পোস্ট ডক্টরেট করে দেশে ফিরলাম। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করতাম, তারা এ জন্য ছুটি না দেয়ায় চাকরি ছেড়েই যেতে হয়েছিল। কিন্তু দেশে এসে কোনো চাকরি পাচ্ছিলাম না। কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্পর্ধা’ নেই গোলাম আযমের ছেলেকে চাকরি দেয়ার- তা সে বিখ্যাত আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরাবর প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত হলেও না। ডক্টরেট ও পোস্ট ডক্টরেট করলেও এ ‘অধিকার’ আমার নেই। সুতরাং এমএ পাস করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েই চাকরি করেছি, পিএইচডির পরও। কিন’ পোস্ট ডক্টরেট করে এসে দেখি, আমার জন্য চাকরি নেই। একটি বড় প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ইন্টারভিউতে ডাকল। কিন’ নিলো না। কারণ? আমার নাকি যথেষ্ট পাবলিকেশন নেই। অথচ সে সময় তিনটি বিদেশী প্রতিষ্ঠান থেকে আমার পাবলিকেশনের নিশ্চয়তা দেয়া চিঠি ছিল যার মধ্যে একটি ইংল্যান্ডের। যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট ডক্টরেট করেছি, তাদের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়, তারা আমার গবেষণাপত্রটি পাবলিশ করবে। বাংলাদেশের প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে কয়জন গবেষণা করে? সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও বা কতটুকু রিসার্চ হয়? আর আমার যদি পাবলিকেশন্স নাই থাকত, তাহলে আজ কিভাবে ইংল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছি? চক্ষুলজ্জার কারণে সে প্রাইভেট ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ বলেনি যে, গোলাম আযমের ছেলেকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

    শুধু আমিই এসবের সম্মুখীন হইনি। আমার যে ভাই সেনাবাহিনীতে ৩০ বছর চাকরি করলেন নিজের সব মেধা ও শ্রম দিয়ে, তার সাথে কি আচরণ করা হলো? তা তো আরো অনেক বেশি ভয়াবহ। তিনি সেনাবাহিনীর প্রায় সব পরীক্ষাতেই প্রথম হয়েছেন। বিএমএ থেকে সেরা ক্যাডেট হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন এবং সেনাবাহিনীর গোল্ড মেডেল পেয়েছেন। যারা তার সাথে চাকরি করেছেন বা তার সম্পর্কে জানেন, তারা সবাই বলবেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সর্বকালের সেরা অফিসারদের মধ্যে তিনি একজন। শুধু গোলাম আযমের সন্তান হওয়ার কারণে কোনো কারণ না দেখিয়েই তাকে বরখাস- করা হলো। যে প্রতিষ্ঠানের জন্য নিজের জীবনকে উজাড় করে দিলেন, তাকে ন্যূনতম পাওনাগুলোও না দিয়ে সেখান থেকে বিদায় করা হলো। এ কেমন ন্যায়বিচার?

    ইংল্যান্ড থেকে দেশে যাওয়ার আগে Highly Skilled Migrant Programme নামের একটি স্কিমে ইমিগ্রেশনের আবেদন করেছিলাম। যখন চাকরি পাচ্ছিলাম না তখন জানতে পারলাম, আমার আবেদনটি গৃহীত হয়েছে। অনার্স ও মাস্টার্সে ব্রিলিয়ান্ট রেজাল্টের পর অনেকেই পরামর্শ দিয়েছিল ইংল্যান্ড বা আমেরিকায় পিএইচডির জন্য যেতে। কিন্তু বুড়ো বাবা- মায়ের সাথে আমার কোনো ভাই না থাকায় আমাকে দেশে থেকেই আলীগড়ে প্রতি বছর দু-তিনবার যাওয়া-আসা করে পিএইচডি করতে হলো। যখন পোস্ট ডক্টরেটের পর চাকরি পাচ্ছিলাম না আর ইংল্যান্ডের ইমিগ্রেশন হয়ে গেল, তখন আব্বাই বললেন সেখানে চলে যেতে। কাগজপত্র জোগাড় করে পাঠানোর পর অপেক্ষার পালা। কিন’ ব্রিটিশ হাইকমিশন থেকে ভিসার কোনো খবর আসছে না। আমার ভাইয়ের মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে ২৮ বছর পর ইংল্যান্ডে আমাদের পুরো পরিবার একত্র হওয়ার সুযোগ হলো। আব্বা-আম্মা ও আমার চতুর্থ ভাই পরিবারসহ একসাথে ইংল্যান্ড যাওয়ার দিনক্ষণ ঠিক হয়ে আছে। কিন’ আমার কী হবে? আব্বা ঘোষণা করলেন, ‘আমার ভিসা না হলে তিনিও যাবেন না’। সন্তানের জন্য কী অপূর্ব মায়া! এক দিন সকালে ব্রিটিশ হাইকমিশন ফোন করে জানাল, তারা আমাকে ভিসা দেয়ার সিদ্ধান- নিয়েছে, তাই যেন আমার পরিবারের সবার পাসপোর্ট নিয়ে দেখা করি। সাথে সাথে আব্বাকে খবরটি জানালাম। তিনি আনন্দে কেঁদে উঠে বললেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আজকেই তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহকে বলেছিলাম, আজই যেন তিনি একটি ভালো খবর দেন।’ পরে আম্মার কাছে শুনেছিলাম, আব্বা সেদিন তাহাজ্জুদ পড়তে গিয়ে সিজদায় গিয়ে দীর্ঘ সময় ছিলেন, আম্মা জিজ্ঞেস করায় তিনি বলেছিলেন, সে সিজদা নামাজের ছিল না; ছিল আমাকে নিয়ে দোয়া করার জন্য।’ আল্লাহ কিভাবে বাবা-মায়ের দোয়া কবুল করেন তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ এ ঘটনা।
    আজ ৮৯ বছর বয়সে স্নেহশীল বাবা কী অবস্থায় আছেন তা আল্লাহই ভালো বলতে পারবেন। প্রচলিত আদালতে ছেলের সাক্ষ্য কাউকে নির্দোষ প্রমাণে সহায়ক হয় না। আল্লাহর কোর্টে সব সত্য সাক্ষ্য গৃহীত হবে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তার মতো ভালো মানুষের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো করা হচ্ছে, তা ডাহা মিথ্যা। যে মিডিয়া ট্রায়ালের সম্মুখীন তিনি হয়েছেন, তা তার প্রতি অবিচার। যে মানুষটিকে এত কাছে থেকে এত বছর দেখলাম, তার বিরুদ্ধে এত জঘন্য মিথ্যাচার অত্যন- পীড়াদায়ক। স্বাধীনতার আগে ৪৮ বছর এবং স্বাধীনতার পর ৪০ বছর যার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললেন না, সে ব্যক্তি যুদ্ধকালীন কয়টি মাস এত খারাপ হওয়ার কথা কি বিশ্বাসযোগ্য? তার সংস্পর্শে অন্য যারা এসেছে, তারা বলুন তিনি কেমন মানুষ। পাড়ার লোকদের জিজ্ঞেস করুন, যে মসজিদে তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন সে মসজিদের মুসল্লিদের কাছ থেকে খবর নিন। আমাদের বাসার কাজের লোকদের সাথে কথা বলুন। যে ছেলেটির কাঁধে ভর দিয়ে তিনি চলাফেরা করতেন তার সেই খাদেমের কাছ থেকে জানুন, তিনি কেমন মানুষ।

    এ দেশকে তিনি কতই না ভালোবেসেছেন। চাইলে তিনি অনেক আরাম-আয়েশে দিন কাটাতে পারতেন। নির্বাসিত জীবনে ব্রিটিশ বা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে বিশ্বদরবারে ইসলামের খেদমতে নিয়োজিত হতে পারতেন। কিন্তু প্রিয় জন্মভূমির প্রতি টান তাকে নিয়ে গেছে বাংলাদেশে। ২৩টি বছর কাটিয়েছেন নিজের মাতৃভূমিতে ‘বিদেশী’ হয়ে। নিজের দেশের কিছু মানুষের দ্বারাই বারবার মিথ্যা অপবাদের শিকার হয়েছেন, কিন’ কখনো কারো বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ করেননি। গ্রেফতারের আগে তার অনুসারী ও সমগ্র দেশবাসীকে তিনি নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরকারের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে বলেছেন দেশের সমস্যাগুলো নিয়ে, তাকে নিয়ে নয়।

    ১৯৭১ সালে আব্বার ভূমিকা কী ছিল, নিজে বই লিখে বিস্তারিতভাবে তার বর্ণনা দিয়েছেন। টেলিভিশনে তার সাক্ষাৎকার ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে। কেউ কি তার সে বক্তব্যের জবাব দিতে পেরেছে? ৪০ বছর ধরে কেউ তার বিরুদ্ধে একটি থানায়ও মামলা করল না কেন? এর মধ্যে তো প্রায় ১২ বছর আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় ছিল। তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে কিছু পত্রিকায় তার দেয়া বিবৃতি ব্যবহার করা হয়। কোথায় কখন তিনি নিরীহ মানুষকে হত্যা, মহিলাদের ধর্ষণের জন্য বিবৃতি দিয়েছেন? মাত্র একটি উদাহরণ তারা দেখাক। আরেকটি উদ্ভট অপবাদ চালু হয়েছে- তিনি নাকি বাংলাদেশ হওয়ার পর বাংলাদেশকে আবার পাকিস্থান বানানোর জন্য চেষ্টা করেছিলেন। কী আজগুবি কথা! পত্রিকার কাটিং তারা দেখাক, কখন কোথায় তিনি এমন ভূমিকা রেখেছেন। কোনো রাজনীতিক বা আইনজীবী অতি সাধারণ এসব প্রশ্নের জবাব দেবেন কি?

    ন্যায়বিচার হলে আমাদের আপত্তি নেই। কিন’ ৮৯ বছর বয়সের একটি মানুষকে এভাবে জেলে পাঠানো কোন ন্যায়বিচার? তাকে জামিন দিলে কি বিচার করা যেত না? কেন অভিযুক্তদের সাংবিধানিক অধিকার সংশ্লিষ্ট আইনে রাখা হয়নি? ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুদ্ধাপরাধসংক্রান- বিশেষজ্ঞ স্টিফেন র‌্যাপ- সবাই এ আইনকে সংশোধন করতে বলেছেন। কারণ এ আইন ন্যায়বিচারের পরিপন’ী। সরকার কি পারত না সেসব পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে, যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়? কিন’ তা করা হচ্ছে না কেন?

    এবার মিডিয়া ট্রায়াল প্রসঙ্গ। বেশির ভাগ পত্রিকা ও টিভি চ্যানেল এমনভাবে সংবাদ প্রচার করছে যে, রায় হয়ে গেছে। তারা কি জানেন না যে, তাদের পছন্দসই কোর্টেও এখনো রায় দেয়া হয়নি? অভিযোগ কেবল দাখিল করা হয়েছে। এরপর শুনানি হবে, তার পর রায়। কিন’ প্রমাণের আগে কিভাবে মিডিয়া একজনকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করে? তারা তো দেখলেন, আব্বা টিভিতে যেসব কথা বলেছেন তার জবাব কেউ দিতে পারেনি। তার পরও তারা কেন উঠেপড়ে লেগেছে? অন্য সবার মতো তাদেরও অভিযোগ প্রমাণের আগে জানার উপায় নেই আসলে কোনটা সত্য। রাজনৈতিক আদর্শ বড়, না সাংবাদিকতার নীতি বড়? আর আওয়ামী নেতারা তো দিনক্ষণ ঠিক করে ঘোষণা দিচ্ছেন, কবে রায় কার্যকর হবে। তারা কিভাবে জানেন যে, কী রায় হবে? কোনো কোনো মন্ত্রী তো বিচার না করেই ফাঁসি দিয়ে দেয়ার কথা বলছেন। এ অবস্থায় ন্যায়বিচার হওয়ার পরিবেশ কতটুকু থাকে, সবার বিবেকের কাছেই এ প্রশ্ন রাখছি।

    দেশের কত ভাগ মানুষ এ বিচারপ্রক্রিয়াকে সমর্থন দিচ্ছে? গত নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি মানুষ তাদের ভোট দেয়নি। তারা কি এটা চাচ্ছে? নাকি চাচ্ছে, দেশের হাজারও সমস্যা সমাধানে সরকার দায়িত্ব পালন করুক? সরকার কি সেটা করছে? মিডিয়া দেখলে তো মনে হবে, এ বিষয়টাই জাতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আসলেই কি দেশবাসী তা মনে করে, নাকি তারা চায় অন্ন, বস্ত্র, বাসস’ান, শিক্ষা, ন্যায়বিচারসহ মৌলিক অধিকার?

    দেশবাসীর কাছে মজলুম ব্যক্তির সন্তান হিসেবে একটি প্রশ্ন রাখতে চাই। সরকারকে আপনারাই তো ক্ষমতায় বসিয়েছেন। তাদের দায়িত্ব আপনাদের কথা শোনা। আপনাদের কি তাদের কাছে ন্যায়বিচার চাওয়া উচিত নয়?

    পরিবার হিসেবে আমরা আব্বাকে ভালোবাসি, তাই বৃদ্ধাবস্থায় তার স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা চিন্তিত। কিন্তু আমরা ভীত নই। আব্বাকে কোনো দিন দেখিনি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পেতে। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সবসময় আল্লাহর ওপরই আস্থা রেখেছেন। সব জুলুম সহ্য করার জন্য তিনি প্রস্তুত। তাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসি দিলেও তিনি বিচলিত নন। কারণ শাহাদতের মৃত্যুকে তিনি সৌভাগ্যের বিষয় মনে করেন। আব্বাকে ভালোবাসি বলে তার জন্য মনটা কাঁদে। এ কথা যেমন ঠিক, তেমনি এ কথাও আমাদের স্মরণে আছে যে, তিনি আল্লাহর একজন খাঁটি বান্দা হিসেবে আল্লাহর হেফাজতেই থাকবেন। আল্লাহ যা ফায়সালা করবেন তা মেনে নিতে আমরা প্রস্তুত। আব্বা সব সময় সহনশীলতার শিক্ষাই আমাদের দিয়ে গেছেন। তাই যারা এত সব অন্যায় করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা বিদ্বেষ পোষণ করি না। তাদের জন্য দোয়া করি আল্লাহ যেন তাদের হেদায়েত করেন। আর তারা যদি হেদায়েতের যোগ্য না নয়, তবে তাদের ক্ষতি থেকে আমাদের প্রিয় জন্মভূমির মানুষদের যেন তিনি মুক্ত করেন। কিন্তু যে অন্যায় এ সরকার আমার বাবা ও তার সহকর্মীদের সাথে করছে, তা মেনে নেয়া যায় না।

    হে পরোয়ারদিগার, তুমি প্রকাশ্য ও গোপন সব কিছু জানো। আমরা জানি তোমার কোর্টে শতভাগ ন্যায়বিচার হয়। আমরা আব্বাকে তোমার কাছে সোপর্দ করলাম ও তোমার ন্যায়বিচার দেখার অপেক্ষায় থাকলাম। যে অন্যায় অপবাদের দ্বারা তোমার এ বান্দা জর্জরিত, তা থেকে তুমি তাকে মুক্ত করো। সব জুলুম থেকে তুমি তাকে রক্ষা করো। আর আসল সত্য কী, তা তুমি সবার কাছে উন্মোচিত করো- আমিন

  • probirbidhan 01:49 on May 14, 2012 Permalink |
    Tags: , , , , , Ghulam Azam, , Kamaruzzaman, Liberation War of Bangladesh 1971, mastermind, Mujahid, Nizami, , Rajakars, , Sayedee, , ,   

    Ghulam Azam says he was a collaborator, not war criminal 

    ‘I was on list of collaborators’

    Julfikar Ali Manik and Rizanuzzaman Laskar

    Ghulam Azam yesterday said he was on the list of collaborators of the Pakistani occupation forces. But he denied that he was a war criminal.

    The 89-year-old said these after the International Crimes Tribuna-1 chairman Justice Md Nizamul Huq asked him if he pleaded guilty or not guilty of the five war crimes charges read out to him.

    “I don’t consider myself guilty,” replied Ghulam Azam, who stood up from his seat in the dock.

    He then sought the tribunal’s permission to say something and went on to give a speech of around 10 minutes.

    In 1973, the then Bangladesh government of Sheikh Mujibur Rahman made a list of war criminals, he told the court.

    “My name is not on that list.”

    The listed war criminals were pardoned at a meeting between the foreign ministers of Bangladesh, Pakistan and India.

    “I was among those who were branded collaborators,” said the former chief of Jamaat-e-Islami, adding that he had then been pardoned.

    The collaborator’s act was formulated at the time and many were arrested, he said.

    “There is no meaning of trying the collaborators, pardoning the real [perpetrators]. I was not on the list of war criminals. I am not a war criminal.”

    Ghulam Azam’s counsels in their submissions during the hearing of charge framing argued in the same manner, saying 195 Pakistani army personnel, who were the principal accused of committing war crimes, were pardoned and released from jail.

    Therefore, there is no point of trying their abettors, the counsels argued.

    During the charge framing yesterday, the tribunal said the ICT act is very clear to have been promulgated for the trial of persons who committed international crimes and the release of 195 prisoners of war, the collaborators order and the clemency extended to persons cannot bar the trial of the accused under the ICT Act 1973.

    It is evidence alone that determines the principal offenders and their associates, and the release of the principal offenders cannot prevent the trial of the collaborators, the tribunal said.

    In January 1972, Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman’s government passed a law to try the collaborators and war criminals.

    “Those who were punished for or accused of rape, murder, attempt to murder or arson will not come under general amnesty under section 1,” reads section 2 of the act.

    According to historical records, out of 37,000 sent to jail on charges of collaboration, about 26,000 were freed following announcement of the general amnesty.

    Around 11,000 were behind bars when the government of Justice Sayem and General Ziaur Rahman repealed the Collaborators Act on December 31, 1975. An appeal spree and release of war criminals en masse followed the scrapping of the law.

    During the entire period, Ghulam Azam remained outside the country.

    Yesterday, he told the tribunal that the term “war criminal” first surfaced after the 2001 national polls, following which the BNP-Jamaat led four-party coalition formed government.

    “The Awami League and the BNP bagged almost equal percentage of votes in that election,” said Ghulam Azam.

    Nevertheless, the AL won 58 seats in parliament and the BNP 197 seats, he said, adding, “Why such a big difference in the result? Because the Jamaat and the BNP were united.”

    This proves that the AL had lost the polls because of the alliance between the two parties, the court heard him say.

    “Whenever there is an alliance, it is feared that the AL may lose the election.”

    Citing the election results at the Supreme Court Bar Association and teachers’ associations at public universities, he said in many cases the AL could not win an election when the BNP and the Jamaat were united.

    “The Awami League thinks the alliance should be broken and Jamaat should be eliminated from politics,” he said, “therefore, after 30 years, the Awami League [in 2001] decided to hold the [war crimes] trials to eliminate the Jamaat”.

    The law for trying war criminals is now being used to try the collaborators, he said. “There is no logic behind trying me as a war criminal.”

    “I say India helped us not for our liberation, but for its own interests,” he said.

    As Ghulam Azam went on, the tribunal tried to assure him that he would be given the opportunity to speak further at a later stage of the trial.

    “You are a highly educated person. You do understand that there are rules and laws,” said Justice Huq, requesting Ghulam Azam to take his seat. “We are sorry,” Justice Huq said.

    Anti-Bangladesh before & after ’71

    Ghulam Azam’s crusade to thwart the emergence of Bangladesh had continued even after the nine-month-long blood-spattered Liberation War in 1971, as he tried to revive East Pakistan and spread propaganda against Bangladesh for several years.

    Just when Pakistan was on the verge of losing the war, Ghulam Azam went to Pakistan on November 22, 1971. He formed East Pakistan Retrieval Committee in Pakistan and campaigned until 1973 to build public opinion against Bangladesh and its recognition in the Islamic world.

    While reading out the charges yesterday, Justice Md Nizamul Huq, chairman of the International Crimes Tribunal-1, gave a brief profile of accused Ghulam Azam.

    He said Ghulam Azam went to London in 1973 and set up an office of East Pakistan Retrieval Committee there. He published a weekly, Shonar Bangla, in London, which was used as a propaganda tool against Bangladesh.

    Bangladesh government cancelled his citizenship on April 18, 1973.

    Ghulam Azam later visited Saudi Arabia in March, 1975. He met King Faisal and told him that Hindus have captured East Pakistan, the holy Quran has been burnt, mosques have been destroyed and converted into temples, and Muslims were killed.

    He collected funds from the Middle East for rebuilding mosques and madrasas.

    After the assassination of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman, Ghulam Azam returned to Bangladesh on August 11, 1978 with a Pakistani passport. He got back his citizenship and rejoined his post as the ameer of Jamaat-e-Islami. He served in the post until Motiur Rahman Nizami was elected ameer.

    Ghulam Azam was born on November 7, 1922. He studied in a madrasa first and then obtained master’s degree from Dhaka University in 1950. He was a teacher of Rangpur Carmichael College between 1950 and 1955.

    He joined Jamaat-e-Islami in 1954 and served as its secretary from 1957 to 1960. He became the ameer of Jamaat-e-Islami in 1969. During the Liberation War, Jamaat and Islami Chhatra Sangha under his leadership opposed the Liberation War.

    He played a pivotal role in forming Shanti (peace) Committee, Razakar, Al Badr, Al Shams (collaborator forces). He was an elected member of the national assembly from Tangail in the sham elections of 1971, Justice Nizamul Huq said.

    The Daily Star went through historic documents and is able to shed more light on Ghulam Azam’s records.

    According to records on the Liberation War, Ghulam Azam began playing an active role in helping the Pakistani occupation forces even as the nation joined the armed struggle to free Bangladesh soon after the launch of a massacre by the Pakistani military on the night of March 25, 1971.

    He was ameer of the East Pakistan Jamaat-e-Islami before the Liberation War. As the ameer, he campaigned across Bangladesh and even in Pakistan (then West Pakistan) in an attempt to foil the liberation movement.

    “Pakistan is the house of Islam for the world’s Muslims. Therefore, Jamaat activists don’t justify staying alive if Pakistan disintegrates,” said Ghulam Azam in a speech to mobilise his party men and followers against Bangladesh and help the occupation forces. (Source: Jamaat’s mouthpiece the daily Sangram, 1971).

    Ghulam Azam is one of the front men who actively helped the Pakistani forces’ attempts to foil the birth of Bangladesh. He was hyperactive against the Liberation War and became a symbol of war crimes in Bangladesh.

    He met Pakistani General Tikka Khan, who was known as the “Butcher of Baluchistan”, 10 days after the war started and earned the same title “butcher” as an architect of the genocide launched on the night of March 25, 1971 in Dhaka.

    During the nine-month-long bloody war, Ghulam Azam and his party Jamaat-e-Islami, its student wing Islami Chhatra Sangha (later renamed Islami Chhatra Shibir) played a key role along with their other political partners to foil Bangladesh’s independence struggle.

    According to newspapers, including the daily Sangram, and books and documents on 1971, Jamaat and its student wing played a key role in forming the Peace Committees and some other collaborator forces like Razakar, Al-Badr and Al-Shams.

    Throughout the nine-month war, Jamaat, its student wing and the collaborator forces actively helped the Pakistani military in mass killing, rape and atrocities.

    The Pakistani forces and their Bangladeshi collaborators committed genocide and war crimes that left three million people dead and around a quarter million women violated, besides the planned elimination of some of the best of Bengali brains on December 14, 1971.

    War records show that Jamaat formed Razakar and Al-Badr forces to counter the freedom fighters. Razakar force was established by former secretary general of Jamaat Moulana Abul Kalam Mohammad Yousuf, and Al Badr included the Islami Chhatra Sangha activists.

    Anticipating defeat, the occupation forces and their collaborators–mostly leaders of Jamaat and its student front–picked up leading Bengali intellectuals and professionals on December 14 and killed them en masse with a view to intellectually crippling the emerging independent nation.

    Though Ghulam Azam was the brain behind Jamaat’s anti-liberation efforts, incumbent Jamaat Ameer Motiur Rahman Nizami, president of Islami Chhatra Sangha in 1971, played a vital role in collaborating with the Pakistani junta in committing genocide.

    Nizami, who is also behind bars on charges of war crimes, had said, “Every one of us should assume the role of a Muslim soldier of an Islamic state and through cooperation with the oppressed and by winning their confidence we must kill those who are hatching a conspiracy against Pakistan and Islam.” (Daily Sangram quoted Nizami on September 15, 1971)

    Ghulam Azam and his party men and anti-liberation elements used to call the freedom fighters “miscreants”, “Indian agents”, “malaun” (an offensive word used against the Hindus), and “infiltrators”.

    On April 8, 1971, Ghulam Azam issued a joint statement with other Jamaat leaders. A book containing an account of the killers and collaborators titled “Genocide ’71” quotes from that statement: “India is interfering in the internal affairs of East Pakistan. Wherever patriotic Pakistanis see Indian agents or anti-Pakistan elements and infiltrators, they will destroy them.”

    Genocide ’71 also reads: “On June 18, on arriving at Lahore airport, Ghulam Azam spoke to journalists, stating that, in order to further improve the conditions in East Pakistan, he was going to provide some additional advice to the president [General Yahya Khan].

    “However, he refused to elaborate any further on what sort of advice he was going to give. Regarding the situation in East Pakistan, he said: ‘The miscreants are still engaged in destructive activities. Their main aim is to create terror and turbulence. These miscreants are being directed by Naxalites and left-wing forces.'”

    On June 19, before Tikka Khan left for Dhaka, Ghulam Azam met then Pakistan president Yahya Khan. After his meeting with Yahya, he addressed a press conference in Lahore. He told journalists, “The miscreants are still active in East Pakistan. People must be provided with arms to destroy them.”

    Addressing Jamaat workers prior to the press conference, Ghulam Azam said, “In order to prevent the disintegration of Pakistan, the armed forces had to be deployed.”

    He further noted, “The recent tumult in East Pakistan is 10 times greater than the 1857 Revolution in Bengal.”

    Speaking at a press conference in Peshawar on August 26, he said, “The armed forces have saved us from the treachery of our enemies and from the evil designs of India. The people of East Pakistan are lending full support to the armed forces in destroying miscreants and infiltrators.”

    On November 23, Yahya Khan declared a state of national emergency.

    Ghulam Azam welcomed this announcement. He told the press in Lahore, “The best way to defend ourselves is striking at our enemies.” He said in order to restore peace in East Pakistan, each patriotic citizen, each member of the Peace Committees, Razakar, Al-Badr, and Al-Shams must be armed with modern automatic weapons.

    At a meeting in Rawalpindi on November 29, he said, “There is no example in the history of a nation at war surviving without retaliation. Aggression is the best form of defence.”

    On December 3, he in Karachi said, “An East Pakistani should be in charge of the foreign office because it is only an East Pakistani who can cope with the Bangladesh tamasha [the Bangladesh farce].”

    Immediately after victory on December 16, 1971, Ghulam Azam and many others like him fled to Pakistan and returned only after the brutal assassination of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman and most of his family members in 1975.

    After victory the first issues of newspapers of the new nation carried the government’s decision to ban five communal parties, including Jamaat-e-Islami, on December 18 with immediate effect.

    The banned parties were given the green light to resume politics during the regime of late president Ziaur Rahman.

    Genocide ’71 said soon after Ghulam Azam with a few of his followers went to Saudi Arabia, an advertisement, in the name of a fake organisation, appeared in several Middle Eastern papers. The ad proclaimed, “mosques are being burnt in East Pakistan, Hindus are killing Muslims and destroying their properties.” On the plea that Islam had to be saved, the ad appealed for contributions.

    It also said Ghulam Azam, in order to collect funds and to continue his campaign against Bangladesh, visited several countries of the region, including Dubai, Abu Dhabi, Kuwait, and Beirut. After completing his tour of these areas, he left for London in April, 1973.

    Even though he came to Dhaka on a three-month visa during the rule of president Ziaur Rahman in 1978, he never left Bangladesh. He became Jamaat’s undeclared ameer taking over from alleged war criminal late Abbas Ali Khan who was the acting ameer.

    In the early 90’s, Ghulam Azam was officially declared ameer of Jamaat, while Shaheed Janani Jahanara Imam launched a unique mass movement demanding trial of war criminals.

    She held an unprecedented People’s Court as a symbolic trial of Ghulam Azam where thousands of people gathered and the court pronounced a verdict to the effect that offences committed by him during the Liberation War deserve capital punishment.

    Ghulam Azam’s citizenship issue came into focus when he came to Bangladesh as a Pakistani national.

    In 1991, the BNP formed government with support from Jamaat and in 1992 Ghulam Azam filed a case with the High Court to get Bangladeshi citizenship. The government of the day arrested him and put him in jail.

    However, after Ghulam Azam acquired Bangladeshi citizenship through a court order in 1994, the government released him from prison.

    In 1998, BNP and Jamaat formed the four-party alliance and Ghulam Azam appeared at a grand public meeting with BNP Chairperson Khaleda Zia.

    Ghulam Azam left the party’s top post in 2000 and was succeeded by Nizami.

    Ghulam Azam stayed out of focus since then but he is back into the spotlight after yesterday’s court order.

Compose new post
Next post/Next comment
Previous post/Previous comment
Show/Hide comments
Go to top
Go to login
Show/Hide help
shift + esc